রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নরমাল ডেলিভারি রুম না থাকলে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ০২:১৪ পিএম

নরমাল ডেলিভারি রুম না থাকলে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

ছবি: সংগৃহীত

দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য পৃথক প্রসবকক্ষ স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, আগামী শনিবারের মধ্যে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রসবকক্ষ চালু না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমতিপত্র বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজধানীতে ধাত্রীদের একটি পেশাজীবী সংগঠনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবায় অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজন না থাকলেও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মা ও নবজাতকের জন্য অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকার স্বাভাবিক প্রসবকে আরও বেশি উৎসাহিত করতে চায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গর্ভকালীন নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে অনেক পরিবারকে নানা ধরনের আশঙ্কা দেখিয়ে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হয়। মা ও অনাগত সন্তানের নিরাপত্তার কথা ভেবে পরিবারগুলো চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নিলেও সব ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয় না। তাই চিকিৎসাসেবায় নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, মাতৃস্বাস্থ্য ও নবজাতকের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে দক্ষ ধাত্রীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরে স্বাস্থ্য খাতে নতুন জনবল নিয়োগের পরিকল্পনার বড় একটি অংশ ধাত্রী হিসেবে কাজ করবেন, যাতে শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকাতেও মানসম্মত মাতৃস্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষিত ধাত্রী তৈরি হলেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাবে তাঁদের অনেকেই পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষ ধাত্রীর সংখ্যা বাড়ানো এবং সব চিকিৎসাকেন্দ্রে তাঁদের নিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে স্বাভাবিক প্রসবের হার বৃদ্ধি পাবে, অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার কমবে এবং মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!