প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুদিনের প্রত্যাশিত নবম বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও বর্তমানে একবারেই পুরো কাঠামো বাস্তবায়নের দিকেই সরকারের পরিকল্পনা এগোচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সরকারি ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
অর্থ বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুই ধাপে বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করলে প্রশাসনিক জটিলতা, অতিরিক্ত ব্যয় এবং কারিগরি সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চাকরিজীবীদের মধ্যে বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এসব বিষয় পর্যালোচনার পর এককালীন বাস্তবায়নের প্রস্তাব গুরুত্ব পাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিদ্যমান প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামোয় ধাপে ধাপে বেতন সমন্বয় করা তুলনামূলকভাবে জটিল। তাই একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে একবারেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সহজ হবে এবং চাকরিজীবীদের মধ্যেও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম থেকে নবম গ্রেড পর্যন্ত কর্মরত চাকরিজীবীদের বেতন প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। অন্যদিকে দশম থেকে বিংশতম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব হার এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনার অংশ এবং সরকারিভাবে অনুমোদিত নয়।
এদিকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সম্ভাব্য সময়, আর্থিক প্রভাব এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন একটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা, দীর্ঘমেয়াদি বাজেট পরিকল্পনা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সম্ভাব্য বেতন বৃদ্ধি বা কার্যকরের সময় নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই। তাই সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারিভাবে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে সম্ভাব্য পরিকল্পনা হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।



