প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ০৯:৫২ এএম
দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
নতুন এই আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনটির নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ দেশের প্রধান বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। এর আওতায় বিনিয়োগকারীদের নিবন্ধন, অনুমোদন, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, সরকারি প্রণোদনা গ্রহণ, শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করার ব্যবস্থা থাকবে।
নতুন আইনে একক সেবা ব্যবস্থা চালু, অনুমোদন ও লাইসেন্স প্রক্রিয়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনটি কার্যকর হলে বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে থাকা দায়িত্বের অস্পষ্টতা ও সমন্বয়হীনতা কমবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে উঠবে।
আইনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক অঞ্চল, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও অন্যান্য শিল্পাঞ্চলকে একই ব্যবস্থার আওতায় আনার সুযোগ। পাশাপাশি বিভিন্ন অনুমোদন ও লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া ছোট আকারের সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব প্রকল্প দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা, অব্যবহৃত সরকারি জমি, স্থাপনা, শেয়ার ও অন্যান্য সম্পদ উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরির বিষয়ও প্রস্তাবিত আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিনিয়োগ ও ব্যবসা সংক্রান্ত সব ধরনের সেবা একটি একক ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে নতুন আইনে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের হয়রানি কমবে এবং ব্যবসার পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে আশা করছে সরকার।
এদিকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র এবং নতুন আমদানি নীতি আদেশের খসড়ার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি কৌশলপত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে নতুন আমদানি নীতিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করা, অনলাইন অনুমোদন ব্যবস্থা চালু এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে নতুন সুবিধা দেওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।



