প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু দায়িত্ব নয়, এটি সরকারের অঙ্গীকার। দেশের মানুষের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই সরকার সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য একশটি ঘর নির্মাণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় বহু পরিবার ঘরবাড়ি, কৃষিজমি এবং জীবিকার উৎস হারিয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সরকার পুনর্বাসন কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করছে। শুধু বসতঘর নির্মাণ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষি খাতে ক্ষতির বিষয়টিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। যেসব কৃষকের বীজতলা, ফসল কিংবা কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের প্রয়োজনীয় বীজ, সার এবং কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হবে। এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত উৎপাদন কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বন্যার কারণে যেসব মৎস্যচাষি ও গবাদিপশুপালক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তাদের অবস্থাও মূল্যায়ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করবে, যাতে ক্ষতিগ্রস্তরা পুনরায় তাদের জীবিকা শুরু করতে পারেন।
তিনি বলেন, শুধু ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতি নয়, বন্যায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এসব অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার ও পুনর্নির্মাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা না থাকে।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, দেশের যেকোনো দুর্যোগে সরকার মানুষের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। জনগণের নিরাপত্তা, পুনর্বাসন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য গৃহনির্মাণ উদ্যোগকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দ্রুত পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।



