প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ওঠা নানা অনিয়ম, প্রতারণা ও আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এ প্রেক্ষাপটে দেশের ৪৯টি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জানায়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের একাধিক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, লাইসেন্স বাতিল হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন, অনুমোদনের শর্ত অমান্য এবং বিদেশগামী কর্মীদের সঙ্গে অনিয়ম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্রও দাখিল হয়েছে। এসব বিষয় পর্যালোচনার পর সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান অনুযায়ী তাদের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই আদেশ জারির সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়েছে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণা, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে কর্মী পাঠানো এবং নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জমা হচ্ছিল। এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থান ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা এবং জনশক্তি রপ্তানি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা যাবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো প্রতিষ্ঠান যাতে অনিয়ম বা প্রতারণার আশ্রয় নিতে না পারে, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর অনুমোদনপ্রাপ্ত সব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদেশগামী কর্মীদেরও অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



