রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গাজী নজরুল ইস্যুতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম

গাজী নজরুল ইস্যুতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন

প্রতীকী ছবি

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পর বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কী হবে—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে প্রয়োজনীয় নথি বা অবহিতকরণ পাওয়ার পর বিদ্যমান আইন ও বিধান অনুসারেই পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ বলেন, গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে এখনো কমিশনের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি বা নোটিশ পৌঁছায়নি। প্রয়োজনীয় নথি হাতে এলে কমিশন প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিষয়টি পর্যালোচনা করবে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন কোনো বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কমিশনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাই এ বিষয়ে আইনগতভাবে যা করণীয়, সেটিই যথাসময়ে সম্পন্ন করা হবে।

এর আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত নৈতিক আচরণবিষয়ক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সেই প্রেক্ষাপটে দলীয় গঠনতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুসারে তাঁর সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে।

দলের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে, যাতে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যায়। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পাঠানোর পর নির্বাচন কমিশন বিষয়টি পর্যালোচনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচনী আইন বিশ্লেষকদের মতে, কোনো সংসদ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলে তার সাংসদ পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনি বিধান অনুসরণ করতে হয়। নির্বাচন কমিশন সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত দেয় না; বরং সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক বিধান, দলীয় নথি এবং আইনগত অবস্থান পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব, সাংবিধানিক বিধান এবং নির্বাচন ব্যবস্থার বিভিন্ন দিকের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের নজর রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পৌঁছানোর পর বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর আইন ও সংবিধানের আলোকে কমিশন প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!