প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম
মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলের বাস্তুচ্যুত অধিবাসীদের নিজ জন্মভূমিতে নিরাপদ, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত, মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি বৈশ্বিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আয়োজিত ৩৩তম আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনের আলোচনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বিশ্ব এক অত্যন্ত জটিল ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। এ ধরনের সংকটময় মুহূর্তে আঞ্চলিক শান্তি, স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে পারস্পরিক আলোচনার পথ খোলা রাখা, জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ওপর তিনি জোর দেন।
বাস্তুচ্যুত অধিবাসীদের দীর্ঘস্থায়ী সংকট তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশ ১৩ লাখের বেশি মিয়ানমারের নাগরিককে মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়ে আসছে। দীর্ঘ সময় ধরে এত বড় জনগোষ্ঠীকে টেকসই আশ্রয় দেওয়ার ফলে সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত অপরাধমূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সংকট উত্তরণের উপায় বাতলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, এই মানবিক ও সীমান্ত সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান কেবল রাজনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব। সামরিক বা সাময়িক কোনো ব্যবস্থা দিয়ে এর স্থায়ী সমাধান হবে না। একই সাথে তিনি বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সাইবার সুরক্ষার মতো আধুনিক হুমকি মোকাবেলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি করার বিষয়ে জোরালো মতামত ব্যক্ত করেন।



