রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আন্তর্জাতিক পর্যটন নগরী গড়তে কক্সবাজারে বড় পরিকল্পনা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২৬, ১০:১৯ এএম

আন্তর্জাতিক পর্যটন নগরী গড়তে কক্সবাজারে বড় পরিকল্পনা

ফাইল ছবি

কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন ও বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিদ্যমান পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে আধুনিক ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো তৈরির কাজ শুরু হবে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকা উন্নয়নসংক্রান্ত দূরত্বের বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে বিনিয়োগ ও পর্যটনের প্রসার ঘটানো সম্ভব হয়।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারকে দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই উদ্দেশ্যে পর্যটন, যোগাযোগ, শিক্ষা, গবেষণা, পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

নতুন মহাপরিকল্পনার আওতায় সরকারি মালিকানাধীন কয়েকটি আবাসন স্থাপনা আধুনিক রূপে পুনর্নির্মাণের প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত রেখে উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনায় কক্সবাজারকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পর্যটন নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্য রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রেল যোগাযোগ এবং উন্নত সড়ক ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এই অঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতকে কেন্দ্র করে পর্যটনশিল্প, সেবাখাত এবং বাণিজ্যের ব্যাপক বিকাশ ঘটানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। পরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ, সবুজ অঞ্চল সংরক্ষণ এবং উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

এছাড়া কক্সবাজারকে সিটি করপোরেশন হিসেবে উন্নীত করার সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষণকেন্দ্র, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং অন্যান্য নাগরিক অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে কক্সবাজারকে একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক নগরীতে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজার দেশের পর্যটন শিল্পের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!