প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০১:১২ পিএম
দেশের জ্বালানি খাতে নতুন করে সংকট দেখা দিয়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস গ্রহণ ও সরবরাহকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটির কারণে পুনঃগ্যাসীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর ফলে রাজধানীসহ তিতাস গ্যাসের আওতাধীন বিস্তীর্ণ এলাকায় শিল্প, বাণিজ্যিক, যানবাহন এবং আবাসিক গ্রাহকদের স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
রোববার (২৬ জুলাই) তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মহেশখালীর টার্মিনালগুলোতে সৃষ্ট কারিগরি সমস্যার কারণে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। ফলে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ অনেক কম থাকবে এবং অনেক স্থানে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাসচালিত যানবাহন এবং আবাসিক গ্রাহকদের ওপর। অনেক এলাকায় রান্নার সময় পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কোথাও কোথাও দীর্ঘ সময় গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকছে যে স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণে আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতা ক্রমেই বেড়েছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থার কোনো অংশে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে তার প্রভাব দ্রুত সারা দেশের গ্রাহকদের ওপর পড়ে। বর্তমান পরিস্থিতিও তারই একটি উদাহরণ। এ কারণে দীর্ঘমেয়াদে বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোর সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধাপে ধাপে গ্যাসের চাপও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ গ্রাহকদেরও দৈনন্দিন কাজে ভোগান্তি বাড়ছে। বিশেষ করে গৃহস্থালি পর্যায়ে রান্নার কাজে সমস্যার কারণে অনেক পরিবারকে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হচ্ছে।
তিতাস গ্যাস সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, কারিগরি সমস্যা সম্পূর্ণ সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কিছু এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।



