প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে চলমান আলোচনা ও অভিযোগের বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বিদ্যমান সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ নেই। একই সঙ্গে তিনি জানান, আইন অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত তিনি নিরাপত্তাসহ প্রাপ্য সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।
রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদানসংক্রান্ত অনুষ্ঠানের পর গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তিনি বিশেষ সাংবিধানিক সুরক্ষার আওতায় থাকেন। দায়িত্ব পালনকালে গৃহীত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে প্রচলিত আইনের আলোকে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বা বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দায়িত্ব পালন করেছে এবং সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও পেয়েছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তি বা রাজনৈতিক সংগঠন তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে। গণতান্ত্রিক পরিবেশে প্রত্যেক নাগরিকের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো অভিযোগ সরকারের নজরে আসেনি, যা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। ফলে বিভিন্ন ব্যক্তি বা সংগঠন তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করছে। তবে কোনো অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে আইনগত ভিত্তি, তথ্য-প্রমাণ এবং সাংবিধানিক বিধান বিবেচনায় নেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রচলিত বিধান অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন। এ সময় তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি আইন অনুযায়ী একজন সাবেক রাষ্ট্রপতির জন্য নির্ধারিত অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বহাল থাকবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব পালনকারীদের বিষয়ে সংবিধানে কিছু বিশেষ বিধান রয়েছে। এসব বিধান রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদার মর্যাদা রক্ষা এবং সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে প্রণীত। ফলে এ ধরনের বিষয়ে যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে সংবিধান ও প্রচলিত আইনই চূড়ান্ত ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহল সংবিধান ও আইনের আলোকে সরকারের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছে। আগামী দিনগুলোতে এ বিষয়ে নতুন কোনো আইনি বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ আসে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।



