রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাজারের অধিকাংশ টুথপেস্টে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ০৭:৪৫ এএম

বাজারের অধিকাংশ টুথপেস্টে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব

প্রতীকী ছবি

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট নিয়ে নতুন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়নবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের গ্রহণযোগ্য সীমা নির্ধারণ, জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন এবং নিয়মিত বাজার তদারকির দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

রাজধানীর লালমাটিয়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। গবেষণাটি ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছে। এ সময় দেশের বিভিন্ন বড় বিপণিবিতান, খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র এবং পাইকারি বাজার থেকে দেশীয় ও আমদানিকৃত ১৯টি ব্র্যান্ডের মোট ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষাগারে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ভারতে উৎপাদিত পাঁচটির মধ্যে একটিতে, থাইল্যান্ডে উৎপাদিত দুটির মধ্যে একটিতে এবং ভিয়েতনামে উৎপাদিত দুটি নমুনার উভয়টিতেই এ ধরনের কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অর্থাৎ উৎপাদনকারী দেশ ভিন্ন হলেও পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত চারটি দেশের টুথপেস্টেই কমবেশি মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির দাবি উঠে এসেছে।

গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কয়েকটি টুথপেস্টে তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যক মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। তবে গবেষণা পরিচালনাকারী সংস্থা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্র্যান্ডকে দায়ী করা নয়। বরং দেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য কোনো জাতীয় মানদণ্ড, গ্রহণযোগ্য সীমা, বাধ্যতামূলক পরীক্ষা কিংবা পণ্যের মোড়কে এ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের বিধান না থাকায় বাস্তব পরিস্থিতি বৈজ্ঞানিকভাবে তুলে ধরাই ছিল এই গবেষণার মূল লক্ষ্য।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, বর্তমানে দেশে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতিমালার অভাব রয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মিত বাজার তদারকি, উন্নত পরীক্ষাগারের সক্ষমতা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এসব ঘাটতি দূর না হলে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

গবেষণার সুপারিশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিজ্ঞানভিত্তিক জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন, নিয়মিত বাজার তদারকি, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যের মোড়কে উপাদানের স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ এবং এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা পরিচালনার ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের গবেষণার ফলাফল গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সময়ের দাবি।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!