প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম
কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে তৎকালীন বিশেষ বাহিনীর কর্মকর্তা এবং বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদায় কর্মরত মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে ঢাকা সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট শাখার তত্ত্বাবধানে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই এবং আইনগত কার্যক্রম নির্ধারিত নিয়ম অনুসারেই পরিচালিত হবে।
জানা গেছে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বর্তমানে বরিশাল সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি বিশেষ বাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের একটি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। সেই সময়ের একটি আলোচিত অভিযানে টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।
একরামুল হকের মৃত্যু দেশের অন্যতম আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি। ঘটনাটি প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি ওঠে। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় আসে এবং আইনগত প্রক্রিয়াও অব্যাহত থাকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, বর্তমান পদক্ষেপ কোনো চূড়ান্ত রায় নয়; বরং অভিযোগের বিষয়ে আইন অনুযায়ী তদন্ত ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার অংশ। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ এবং প্রচলিত আইনের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে, ২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর যে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছিল, সেখানে বাংলাদেশের দুই কর্মকর্তার নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাদের একজন ছিলেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ এবং অন্যজন ছিলেন মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ। সেই বিষয়টিও তাকে ঘিরে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণভাবে উঠে এসেছিল।
আইন ও বিচার বিশ্লেষকদের মতে, আলোচিত যেকোনো মামলায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং স্বচ্ছ আইনগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
বর্তমানে এই ঘটনাকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং আইনগত প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপের দিকে নজর রয়েছে সবার।



