রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশিদের জন্য চীনের ভিসা প্রক্রিয়ায় বড় স্বস্তি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম

বাংলাদেশিদের জন্য চীনের ভিসা প্রক্রিয়ায় বড় স্বস্তি

সংগৃহীত

বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা এবং বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদের জন্য সুখবর এসেছে। চীনে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য প্রদর্শনী উপলক্ষে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত চীনের দূতাবাস। নতুন এ ব্যবস্থার ফলে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী আবেদনকারীরা তুলনামূলক সহজ উপায়ে ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

দূতাবাসের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চীনের গুয়াংজু শহরে তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে ১৪০তম ক্যান্টন মেলা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, শিল্প ও প্রযুক্তি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজনকে সামনে রেখে বিদেশি অংশগ্রহণকারীদের সুবিধার্থে ভিসা আবেদন পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্যান্টন মেলায় অংশ নিতে আগ্রহী বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য ১৪০তম ক্যান্টন মেলার সরকারি আমন্ত্রণপত্র হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বাধ্যতামূলক নথি। এই আমন্ত্রণপত্র জমা দিলেই ভিসা আবেদন গ্রহণের প্রাথমিক শর্ত পূরণ হবে। পাশাপাশি আবেদনকারীরা চাইলে অতিরিক্ত সহায়ক নথি হিসেবে পূর্ববর্তী চীন সফরের তথ্য, আগের ভিসার কপি অথবা নিজ প্রতিষ্ঠানের নিশ্চয়তাপত্র জমা দিতে পারবেন। তবে এগুলো বাধ্যতামূলক নয়।

দূতাবাস আবেদনকারীদের প্রতি বিশেষ সতর্কবার্তাও দিয়েছে। অনলাইন আবেদনপত্রে ভুল, অসম্পূর্ণ কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করলে আবেদন গ্রহণ নাও করা হতে পারে। প্রয়োজন হলে সংশোধনের জন্য আবেদন ফেরত পাঠানো হবে। তাই প্রতিটি তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করে আবেদনপত্র পূরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া জাল আমন্ত্রণপত্র, ভুয়া কাগজপত্র কিংবা মিথ্যা তথ্য ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানিয়েছে দূতাবাস। এ ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে শুধু বর্তমান আবেদন বাতিলই নয়, ভবিষ্যতে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

দূতাবাস আরও স্পষ্ট করেছে, ভিসা পাইয়ে দেওয়ার নামে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তারা অনুমোদন দেয়নি। ফলে নিশ্চিত ভিসা, বিশেষ ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ কিংবা ভিসা না হলে অর্থ লাগবে না—এ ধরনের প্রলোভনমূলক প্রচারণা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও সহজ হবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পখাতের উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক বাজার সম্পর্কে সরাসরি ধারণা লাভের পাশাপাশি নতুন ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজে পাওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণেও এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!