রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দেশের সব বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১, ২০২৬, ০১:০৯ পিএম

দেশের সব বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় সচল করতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। তিনি বলেছেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রায় ২৯ বছর ধরে বন্ধ থাকা ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল কটন মিল দ্রুত চালুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

শনিবার সকালে কারখানাটি পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও স্থিতিশীল করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রসারে জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারে এবং উদ্যোক্তারা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকেন।

তিনি আরও বলেন, মির্জাপুরের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন শিল্প ও প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় এসব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়িয়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। একই সঙ্গে তাঁতশিল্পের বিকাশে প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, অতীতের নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সময় প্রয়োজন হলেও সরকার ধাপে ধাপে স্থায়ী সমাধানের পথে এগোচ্ছে। তিনি দেশের জনগণকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্বাধীনতার আগে প্রায় ২৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত টাঙ্গাইল কটন মিল একসময় এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান ছিল। জাতীয়করণের পর বিভিন্ন সময় ভিন্ন ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হলেও ১৯৯৮ সাল থেকে কারখানাটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে এটি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।

সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন অচল থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন করে উৎপাদন শুরু হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় অর্থনীতির গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং দেশের শিল্প খাতের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!