প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম
গুমের মতো গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন এই আইনে গুমকে একটি স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধের ধরন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনটির অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গুমের ঘটনায় ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে, মরদেহ উদ্ধার হলে অথবা পাঁচ বছর পার হওয়ার পরও তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ গুমের ঘটনায় সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান থাকবে।
নতুন আইনে বিচার প্রক্রিয়াকে দ্রুত সম্পন্ন করার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে এবং বিচারকার্যও একই সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার প্রত্যাশা করছে সরকার।
আইনটিতে গুম হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য আদালতের মাধ্যমে তল্লাশির অনুমতি, অভিযুক্ত পলাতক থাকলেও বিচার চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ এবং বিভিন্ন ধরনের প্রমাণ গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্যদাতা ও ভুক্তভোগী পরিবারের পরিচয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া গুমের শিকার ব্যক্তি ও তার পরিবারের অধিকার সুরক্ষায় ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং সরকারি আইনি সহায়তার বিষয়টি আইনে সংযোজন করা হয়েছে। দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে।
নতুন আইনে গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবারকে আর্থিক সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে তার সম্পত্তি ব্যবহার, নির্ভরশীল সদস্যদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা এবং নির্দিষ্ট সময় অতিক্রমের পর উত্তরাধিকার সংক্রান্ত সনদ প্রদানের বিধানও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গুমসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের জন্য কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার গঠন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টিও আইনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই আইন কার্যকর হলে মানবাধিকার সুরক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে।



