প্রকাশিত: আগস্ট ৫, ২০২৬, ০৮:২৯ এএম
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের রক্তাক্ত ঘটনাপ্রবাহে আহতদের একটি বড় অংশ হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই প্রাণ হারিয়েছেন। সরকারি হাসপাতালের নিবন্ধিত তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার আগেই শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। জীবন বাঁচানোর শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে হাসপাতালের দিকে ছুটে গেলেও অনেক পরিবারের ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছে শুধু স্বজনের নিথর দেহ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালগুলোতে নিবন্ধিত শহীদদের মধ্যে অধিকাংশই হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যুবরণ করেন। বাকিরা চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারান। সরকারি গেজেটে শহীদ ও আহতের সংখ্যা আরও বেশি উল্লেখ থাকলেও হাসপাতালের নথিতে সংরক্ষিত তথ্যই সেই সময়ের ভয়াবহ বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, গুরুতর গুলিবিদ্ধ রোগীর ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার পর প্রথম এক ঘণ্টাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হয়। এই সময়ের মধ্যে রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ, শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখা এবং দ্রুত অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা গেলে অনেক জীবন রক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু সংঘাতময় পরিস্থিতি, নিরাপদ পরিবহনের সংকট, দীর্ঘ সময় রাস্তায় পড়ে থাকা এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে অসংখ্য আহত ব্যক্তি হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই প্রাণ হারান।
তৎকালীন পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল কার্যত জরুরি সংকট মোকাবিলার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও দিনরাত আহতদের সেবা দিয়েছেন। অনেক হাসপাতালের মর্গে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মরদেহ রাখা হয়েছিল। কোথাও মেঝে, কোথাও বারান্দা, আবার কোথাও হাসপাতাল চত্বরে মরদেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, সংকটের সময় রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক দায়িত্ব পালনই ছিল তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। নানা চাপ ও প্রতিকূলতার মধ্যেও আহতদের চিকিৎসা বন্ধ হয়নি। তবে সময়মতো জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অনেক মূল্যবান প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হতো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। জুলাইয়ের সেই রক্তাক্ত দিনগুলোর এই পরিসংখ্যান আজও স্বজন হারানো অসংখ্য পরিবারের বেদনা ও রাষ্ট্রীয় সংকটের এক নির্মম সাক্ষ্য হয়ে রয়েছে।



