প্রকাশিত: আগস্ট ৫, ২০২৬, ১০:০৮ এএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং ঐতিহাসিক ঘটনাবলিকে সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত সাবেক সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন অধ্যায় সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে নির্মিত জাদুঘরটিতে আন্দোলনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্মারক, আলোকচিত্র, নথিপত্র, চলমান চিত্র, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী এবং সেই সময়ের নানা ঐতিহাসিক উপাদান স্থান পেয়েছে। এসব উপকরণের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানের বাস্তব চিত্র ও শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, উপদেষ্টা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত যোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, কূটনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং তাঁদের অবদানের স্মৃতি চিরস্মরণীয় করে রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
জাদুঘরের বিভিন্ন প্রদর্শনী কক্ষে আন্দোলনের ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়েছে, যাতে দর্শনার্থীরা সেই সময়ের বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারেন। পাশাপাশি শহীদদের ব্যক্তিগত স্মৃতিচিহ্ন ও আন্দোলন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দলিল সংরক্ষণের মাধ্যমে ইতিহাসকে প্রামাণ্যভাবে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, উদ্বোধনের দিন জাদুঘরটি শুধুমাত্র শহীদ পরিবারের সদস্য ও বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য নির্ধারিত ছিল। আগামী ৬ আগস্ট থেকে সাধারণ দর্শনার্থীরা নির্ধারিত নিয়মে জাদুঘরটি পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই জাদুঘর দেশের ইতিহাসচর্চা, গবেষণা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তি, গণতন্ত্র ও আত্মত্যাগের চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



