প্রকাশিত: আগস্ট ৭, ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম
দেশের আইনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন কাঠামোতে পরিচালনার লক্ষ্যে বর্তমান র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) পরিবর্তে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে একটি নতুন বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রণীত খসড়া আইন ইতোমধ্যে অনুমোদন করা হয়েছে এবং জনমত গ্রহণের জন্য তা প্রকাশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
খসড়া আইনে প্রস্তাব করা হয়েছে, নতুন এই বাহিনী বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। বাহিনীটির কার্যক্রম, অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা, অপরাধ তদন্ত, সদস্যদের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক ব্যবস্থাও আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাহিনীর জন্য সরকার নির্ধারিত নিজস্ব প্রতীক, পতাকা ও নির্দিষ্ট পোশাক থাকবে বলেও উল্লেখ রয়েছে।
সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন বাহিনীর সদর দপ্তর রাজধানী ঢাকায় স্থাপন করা হবে। বাহিনীটির মহাপরিচালক হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে।
খসড়া আইনে এসআরবির দায়িত্বের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ, মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনসহ সরকার নির্ধারিত অন্যান্য বিশেষ দায়িত্ব পালনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জনমত গ্রহণ শেষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত যুক্ত করে খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদন পাওয়ার পর এটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংসদে আইনটি পাস হয়ে কার্যকর হলে র্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি কাঠামো বিলুপ্ত হবে। তবে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আগের কিছু বিধান বহাল থাকতে পারে।
নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্য নিয়েই সরকার আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।



