রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে চবির সিনেট থেকে বাদ ৮ আওয়ামীপন্থী শিক্ষক 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২৬, ০২:১৩ পিএম

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে চবির সিনেট থেকে বাদ ৮ আওয়ামীপন্থী শিক্ষক 

ছবি: প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৩৬তম সিনেট অধিবেশনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিরোধিতার অভিযোগ ওঠা আওয়ামীপন্থী আট শিক্ষক। চাকসু ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের বিরোধিতা এবং আন্দোলনকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬তম সিনেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে  এর আগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মৌন মিছিলে অংশ নেওয়া আট শিক্ষকসহ বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিকভাবে সুবিধাপ্রাপ্ত ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত শিক্ষকদের সিনেট অধিবেশনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত আট শিক্ষককে সিনেট অধিবেশনে অংশ নিতে না দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।

চাকসুর সাধারণ সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব বলেন, “শুধু মৌন মিছিলে যুক্ত আটজন শিক্ষকই নন, বরং সাবেক স্বৈরাচারের দোসর, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত এবং রাজনৈতিক সুবিধাপ্রাপ্ত অন্যান্য শিক্ষকদের উপস্থিতির প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।”

তিনি আরও বলেন, “বিগত সময়ে শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালা পরিবর্তন করে যেসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো পুনর্বিবেচনা ও যাচাই করার দাবিও আমরা জানিয়েছি। প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা পরবর্তী অবস্থান নির্ধারণ করেছেন।”

চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ নোমান বলেন, “মৌন মিছিলে অংশগ্রহণকারী আট শিক্ষকসহ আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সিনেট অধিবেশনে উপস্থিতির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। ভিসি ও প্রভোস্টের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ভিসি আশ্বাস দিয়েছেন, অভিযুক্ত কোনো শিক্ষক সিনেট সভায় থাকতে পারবেন না। কেউ উপস্থিত হলে তাকে বের করে দেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী সাত দিনের মধ্যে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং এসব শিক্ষকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে না রাখার নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়েছে। এসব আশ্বাসের ভিত্তিতে আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত কোনো শিক্ষক সভায় উপস্থিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানানো হবে।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাঈল বলেন, “জুলাই আন্দোলনের বিরোধী ও আওয়ামীপন্থী আট শিক্ষকের সিনেট সভায় অংশগ্রহণের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর উপাচার্য নিশ্চিত করেছেন, অভিযুক্ত শিক্ষকরা সিনেট সভায় থাকতে পারবেন না।”

তিনি বলেন, “আগামী সাত দিনের মধ্যে দৃশ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং পরবর্তীতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে না রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তাই কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও আমরা সতর্ক অবস্থানে থাকব।”

এদিকে ‘ভয়েস অব স্টুডেন্টস’-এর সভাপতি আশিক বলেন, “আওয়ামীপন্থী ও জুলাই আন্দোলনের বিরোধী আট শিক্ষককে সিনেটে না রাখার দাবিতে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। আলোচনার পর অভিযুক্ত আট শিক্ষককে সিনেটে না রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “অন্যান্য বিতর্কিত শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাদের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে না রাখার বিষয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়া গেছে। এসব আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন।”

উল্লেখ্য, এর আগে সিনেট অধিবেশনে অভিযুক্ত আট শিক্ষকের অংশগ্রহণের খবর ছড়িয়ে পড়লে চাকসুর পক্ষ থেকে উপাচার্যের কাছে ‘খোলা চিঠি’ দেওয়া হয়। পরে এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!