প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬, ১১:৪৮ পিএম
ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। পূর্বনির্ধারিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও বৈঠকে ঠিক কী বিষয়ে কথা হয়েছে, সে বিষয়ে দুই পক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। এর মধ্যেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানান, ভারতীয় হাইকমিশনার সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ওই বৈঠক শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ১১টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এটিই হবে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ।
এর আগে ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিলেন দীনেশ ত্রিবেদী। তাঁর মতে, দুই দেশের নেতারা আলোচনায় বসলে অনেক সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে। পারস্পরিক যোগাযোগ ও আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্কের জটিল বিষয়গুলো সমাধান করা সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।
গত এপ্রিল মাসে ভারত সরকার দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে দেশটির ১৬তম হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে এই প্রথম ভারত একজন রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের জন্য গত ৫ জুন পশ্চিমবঙ্গ থেকে স্থলসীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। নতুন দায়িত্বে যোগ দেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার এবং পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তাঁর কার্যক্রম নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠকের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ যোগাযোগের বিষয়ে নতুন কোনো বার্তা আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।



