রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

১৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি চায় বিপিসি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১২, ২০২৬, ০৯:১৬ এএম

১৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি চায় বিপিসি

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত চার মাসে জ্বালানি তেল বিক্রিতে বিপুল লোকসানের হিসাব তুলে ধরে সরকারের কাছে ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা ভর্তুকি চেয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি।

জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি তেল পরিবহন, জাহাজ ভাড়া, যুদ্ধঝুঁকির বিমা এবং অন্যান্য আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিপিসির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আমদানি ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়েছে।

বিপিসির হিসাব অনুযায়ী, মার্চে প্রতিষ্ঠানটির লোকসান হয়েছে ২ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা। এপ্রিলে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। মে মাসে ২ হাজার ৬২১ কোটি এবং জুনে ৫ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। চার মাসে মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা।

এর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম তুলনামূলক কম থাকায় বিপিসি ধারাবাহিকভাবে মুনাফা করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি জ্বালানি তেল বিক্রি করে ৪ হাজার ২১৬ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করে। এর আগের অর্থবছরে মুনাফার পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় আগের সেই অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিপিসির তথ্যমতে, যুদ্ধের আগে প্রতি ব্যারেল ডিজেলের গড় দাম ছিল প্রায় ৮৬ মার্কিন ডলার। জুনে তা বেড়ে প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে অকটেনের দামও প্রতি ব্যারেল প্রায় ৭৩ ডলার থেকে বেড়ে ১০৪ ডলারে ওঠে।

সরকারের কাছে পাঠানো চিঠিতে বিপিসি জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে ভর্তুকির প্রয়োজন হয়েছে। মন্ত্রণালয়ও চার মাসের লোকসান বাবদ ওই অর্থ ভর্তুকি হিসেবে দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করেছে।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভর্তুকির বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!