প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২৬, ১০:০২ এএম
দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পূর্ণ করেছে বর্তমান সরকার। রাজনৈতিক উত্তেজনা, প্রশাসনিক জটিলতা, অর্থনৈতিক চাপ ও বৈশ্বিক নানা সংকটের মধ্যেও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি সরকারের সংশ্লিষ্টদের। তাদের মতে, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ১৮০ দিনে বিভিন্ন খাতে বেশ কিছু দৃশ্যমান উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি অর্থনীতি, জ্বালানি, আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক সংস্কারসহ বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও এখনো রয়ে গেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য ঋণ সুবিধা ও ঋণমুক্তির উদ্যোগ, কৃষক কার্ড ও পরিবার কার্ডের মতো সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি এবং তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ অর্থায়নের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের মজুত বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। অবকাঠামো ও পরিবেশ খাতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, সৌরবিদ্যুৎ, বৃক্ষরোপণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মতো উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন ও যানবাহন ব্যবস্থাপনার উন্নয়নেও বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
পররাষ্ট্রনীতিতেও সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। মালয়েশিয়া ও চীন সফরের মাধ্যমে শ্রমবাজার, বিনিয়োগ ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিসরেও বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও অবস্থান জোরদারের চেষ্টা চলছে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যয় সংকোচন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণা কমানো এবং সরকারি কর্মকাণ্ডে জবাবদিহি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি অনুষ্ঠান ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো এবং প্রটোকল সহজ করার বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
তবে জ্বালানি সরবরাহ, বৈশ্বিক সংঘাতের প্রভাব, দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক সংস্কার এখনো সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, মাত্র ছয় মাসে একটি দেশের দীর্ঘদিনের সংকট পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই নেওয়া উদ্যোগগুলোর ধারাবাহিকতা, বাস্তবায়নের গতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনে এর সুফল কতটা পৌঁছায়—সেটিই আগামী দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী দিনগুলোতে জনসম্পৃক্ততা, জবাবদিহি, সমতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে একটি নিরাপদ, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।



