রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

করের আওতা বাড়াতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: অর্থমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৮, ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম

করের আওতা বাড়াতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: অর্থমন্ত্রী

সংগৃহীত

করের আওতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয় বাড়াতে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, মাঠপর্যায়ে আয়কর, মূল্য সংযোজন কর ও শুল্ক ব্যবস্থার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এই সম্প্রসারিত কাঠামো কাজে লাগিয়ে নতুন করদাতাদের শনাক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যমান করদাতাদের স্বাচ্ছন্দ্যে কর দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত রাজস্ব সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে রাজস্ব ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এই লক্ষ্য পূরণ করা সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত অভ্যন্তরীণ রাজস্ব নিশ্চিত করা গেলে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে এবং বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও আধুনিক করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। করদাতাদের অপ্রয়োজনে সরকারি কর্মকর্তাদের দপ্তরে যেতে হবে—এমন ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী। তার মতে, প্রযুক্তিনির্ভর ও সরাসরি যোগাযোগের প্রয়োজন কম এমন রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে করদাতাদের ভোগান্তি যেমন কমবে, তেমনি অনিয়মের সুযোগও হ্রাস পাবে।

তিনি জানান, অনলাইনে কর নিবন্ধন, কর বিবরণী জমা, কর পরিশোধ এবং শুল্কসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করার ব্যবস্থা ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। পণ্য খালাসের প্রক্রিয়াও প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনা করে নিরীক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করায় কর্মকর্তাদের ইচ্ছামতো হয়রানি করার সুযোগও কমেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে শুধু প্রযুক্তি নির্ভরতা বাড়ালেই রাজস্ব ব্যবস্থার সব সমস্যা দূর হবে না বলে সতর্ক করেন অর্থমন্ত্রী। করদাতারা যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা অনিয়মের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। কর ফাঁকি বন্ধের পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ব্যবসায়ী সমাজের সহযোগিতা চেয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে ব্যবসায়ীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য সরকার ব্যবসায়ীদের পাশে থাকবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণে ব্যবসায়ী ও করদাতা সমাজকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রাজস্ব সংগ্রহ শুধু কর বিভাগের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নয়। দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে সরকার, ব্যবসায়ী এবং করদাতা—সব পক্ষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। কর প্রদানের সংস্কৃতি সহজ ও জনবান্ধব করা গেলে রাজস্বের পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতি করদাতাদের আস্থাও আরও দৃঢ় হবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!