প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
মোটরযানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং চালকদের চালকের অনুমতিপত্র হালনাগাদ করার ক্ষেত্রে জরিমানা ছাড়ের সুযোগ আরও বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত মূল কর ও ফি পরিশোধ করে জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের বিভিন্ন কাগজপত্র এবং চালকের অনুমতিপত্র হালনাগাদ করা যাবে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর ফলে যেসব মোটরযানের বৈধতার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে কিংবা যেসব চালকের অনুমতিপত্র নবায়ন করা হয়নি, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত জরিমানা ছাড়াই প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে মোটরযানের ফিটনেস সনদ, কর পরিশোধের সনদ এবং নির্ধারিত পথে চলাচলের অনুমতিপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সঙ্গে চালকের অনুমতিপত্রও নবায়নের সুযোগ থাকবে। তাই সংশ্লিষ্ট মালিক ও চালকদের শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মোটরযানের কাগজপত্র হালনাগাদের পাশাপাশি গাড়ি বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রচলিত আইনে কোনো মোটরযান বিক্রি হওয়ার পর নতুন মালিকের নামে মালিকানা পরিবর্তন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে গাড়ি বিক্রি হয়ে গেলেও মালিকানা পরিবর্তন না করেই তা সড়কে চলাচল করছে। এতে পুরোনো মালিককে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক ও আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
মালিকানা পরিবর্তন না হলে সংশ্লিষ্ট মোটরযানের জন্য নির্ধারিত অগ্রিম আয়কর, ক্ষেত্রবিশেষে অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর এবং পরিবেশসংক্রান্ত সারচার্জ পুরোনো মালিকের ওপর বর্তাতে পারে। ফলে গাড়ি বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়াও আগের তুলনায় সহজ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর প্রয়োজনীয় যাচাই ও আঙুলের ছাপ নেওয়ার মাধ্যমে একই দিনে মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রয়েছে। নতুন মালিকও প্রয়োজনীয় পরিচয় যাচাই সম্পন্ন করে ডিজিটাল নিবন্ধন সনদের জন্য আবেদন করতে পারেন।
এদিকে সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর করতে চালকের অনুমতিপত্রে দোষসূচক পয়েন্ট কর্তনের ব্যবস্থাও চালু রয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রতিটি চালকের অনুমতিপত্রের বিপরীতে নির্দিষ্টসংখ্যক পয়েন্ট বরাদ্দ থাকে। সড়ক পরিবহনসংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধ বা আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে অর্থদণ্ড বা অন্যান্য শাস্তির পাশাপাশি নির্ধারিত হারে দোষসূচক পয়েন্টও কাটা হতে পারে।
কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন দীর্ঘদিনের বকেয়া কাগজপত্র নিয়মিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সড়কে বৈধ কাগজপত্র ও অনুমতিপত্র নিয়ে চলাচল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে মোটরযান মালিক ও চালকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করে হালনাগাদ করে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।



