প্রকাশিত: মে ৩০, ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের পঁয়তাল্লিশতম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ সময় নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দলকে কর্মসূচি পালন করতে হয়েছে। তবে এবার তুলনামূলক স্বাভাবিক পরিবেশে দলীয় নেতাকর্মীরা প্রিয় নেতাকে স্মরণ করার সুযোগ পেয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শনিবার রাজধানীর জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় দলের কেন্দ্রীয় নেতা, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সদস্যসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বহু বছর ধরে নানা রাজনৈতিক বাস্তবতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হয়নি। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সময় দলীয় কর্মসূচি পালনে নানা বাধা ও চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। তবে বর্তমান সময়ে দলীয় নেতাকর্মীরা অধিকতর স্বাধীনভাবে সমাধিস্থলে এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারছেন, যা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের শাসনব্যবস্থায় নতুন চিন্তা ও বাস্তবধর্মী পরিকল্পনার সূচনা করেছিলেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশাসন, উন্নয়ন ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি যে নীতিমালা প্রণয়ন করেছিলেন, তা আজও দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
বিএনপি মহাসচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য জিয়াউর রহমান যে দৃষ্টিভঙ্গি রেখে গেছেন, তা এখনো সময়োপযোগী। তিনি মনে করেন, জাতীয় উন্নয়ন, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো শক্তিশালী করার বিষয়ে শহীদ জিয়ার পরিকল্পনা দেশের জন্য কার্যকর দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করতে পারে।
তার বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও আদর্শ অনুসরণ করে দলীয় নেতৃত্ব এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। সেই ধারাবাহিকতায় দেশের উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, অসচ্ছল মানুষের মধ্যে খাদ্য ও পোশাক বিতরণসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সকাল থেকেই রাজধানীর জিয়া উদ্যানে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দলীয় পতাকা, ব্যানার ও স্মরণমূলক নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করছেন সমর্থকেরা।
প্রতি বছরের মতো এবারও দিবসটি ঘিরে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ দেখা গেছে। মাজার প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অনেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতির আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এমন দিবসগুলো রাজনৈতিক দলের জন্য শুধু স্মরণ অনুষ্ঠান নয়, বরং সংগঠনের ঐক্য ও আদর্শিক অবস্থান পুনরায় তুলে ধরারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে ওঠে।



