প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
রাজধানীর ধানমণ্ডিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংঘটিত অনভিপ্রেত ঘটনার প্রেক্ষাপটে চার সদস্যের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট চারজনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন শফিকুল ইসলাম, খায়রুল আলম রাসেল, আবুল কালাম এবং মামুন হোসেন।
জানা যায়, মঙ্গলবার ধানমণ্ডি এলাকায় ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে একটি ফ্যাসিবাদবিরোধী বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি শেষে বক্তব্য প্রদানকে কেন্দ্র করে উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ঘটনার পরপরই সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতারা আহত সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান শিশিরের খোঁজখবর নিতে তার বাসভবনে যান। একই সঙ্গে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগরী পর্যায় থেকে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয় এবং বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। চার সদস্যের ওই কমিটিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, দায়ীদের চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত কার্যক্রম শেষে কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।
সংগঠনের দাবি, তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধেই সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সংগঠনের শৃঙ্খলা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং গণমাধ্যমের প্রতি সম্মান বজায় রাখার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সংগঠনের নীতিমালা ও আদর্শের পরিপন্থী। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নেতাকর্মীদের আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা তৈরি হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণকে অনেকেই ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, অভিযোগ ওঠার পর তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ এবং শাস্তি কার্যকর করা রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও কোনো সদস্য সংগঠনের নীতিমালা ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে তারা কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।



