প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শুরুতে ভিডিওটি নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি হওয়ার দাবি উঠলেও পরে দলীয় পর্যায় থেকে ভিডিওতে থাকা নারীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী বলে জানানো হয়। এবার নিজেই এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন গাজী নজরুল ইসলাম।
মঙ্গলবার নিজের যাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, গত ১৩ জুলাই তিনি তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক কক্ষে প্রবেশ করে তাঁদের জিম্মি করে নগদ অর্থ আদায় করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় তাঁর ব্যবহৃত ভাড়ার গাড়িটিও আটকে রাখা হয় এবং পরে আরও অর্থ দাবি করা হয়। তিনি দাবি করেন, দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে এক ব্যক্তির পূর্বের বিরোধের জের ধরেই এ ঘটনার সূত্রপাত। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে ধারণ করে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গাজী নজরুল ইসলাম আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট নারী তাঁর বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী। পারিবারিক সম্মতিতেই তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনাকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে ভিডিওটি প্রকাশের পর এর সত্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। তথ্য যাচাইকারী একটি প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক বিশ্লেষণে ভিডিওটিতে কৃত্রিম প্রযুক্তি ব্যবহারের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই সংসদ সদস্যের সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
গাজী নজরুল ইসলাম তাঁর বিবৃতিতে বলেন, ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা প্রচার করা হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।



