প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
জনগণের চূড়ান্ত রাজনৈতিক মুক্তি অর্জন এবং দেশ থেকে স্বৈরাচারী ব্যবস্থার শেষ চিহ্ন অবলুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রধান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের মতামতকে অবমূল্যায়ন করে কোনো শাসনব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুর এলাকায় জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের চেতনা সংরক্ষণ, জনগণের প্রত্যক্ষ মতামতের প্রতিফলন বাস্তবায়ন এবং সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্রুত বিচারের দাবিতে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিদ্যমান সরকারের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “দেশের সাধারণ নাগরিকরা যে রায় প্রদান করেছেন, তাকে কোনোভাবেই অপমান করা সমীচীন হবে না। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, যারা জনগণের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে, তাদের চরম মূল্য দিতে হয়েছে। সরকারের পদক্ষেপে বিলম্ব হলেও তাদের উচিত বাস্তবতাকে স্বীকার করে নেওয়া। কারণ, জনগণকে সম্মান জানালে তবেই জনগণ সরকারকে গ্রহণ করবে।”
জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, এই ঐতিহাসিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিবর্তন যাদের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে, সেই বীরদের প্রতি সরকার উপযুক্ত কৃতজ্ঞতা প্রকাশে ব্যর্থ হচ্ছে। আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন ও চিকিৎসার দায়ভার এককভাবে সরকারকেই বহন করতে হবে।
জনমতের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, দেশের একটি সিংহভাগ জনগোষ্ঠী প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার পর যদি সেই রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়, তবে জাতীয় নির্বাচনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠে যায়। দেশে আর কোনো ধরনের স্বৈরাচারী চর্চাকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি অতি দ্রুত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সব ধরনের অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি জানান।



