প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২৬, ০৮:৩২ এএম
দেশে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে অবিলম্বে একটি সমন্বিত জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা বলেছেন, জ্বালানি খাতের দীর্ঘদিনের সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে অভিজ্ঞ ও দক্ষ বিশেষজ্ঞদের মতামতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য পরিস্থিতি। এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে সরকার অন্য ইস্যুতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে। এর ফলে শিল্প, ব্যবসা এবং আবাসিক খাতে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, বিদেশ থেকে তরল গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়লেও দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও নতুন কূপ খননে প্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। তাই দেশীয় জ্বালানি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
বিদ্যুৎ খাত নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত চার্জের কারণে সাধারণ গ্রাহকের ওপর আর্থিক চাপ বেড়েছে। একই সঙ্গে বিল নির্ধারণের পদ্ধতিতে আরও স্বচ্ছতা আনার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ বিলে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং বিল সমন্বয়ের নামে গ্রাহকদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তারা বলেন, গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, চাল, ডাল, কাঁচা মরিচ, চিনি, রসুনসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
জামায়াতের নেতাদের মতে, জ্বালানি খাতে পরিকল্পিত বিনিয়োগ, দেশীয় সম্পদের অনুসন্ধান, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট অনেকাংশে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।



