প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ০২:০১ পিএম
সরকারের বর্তমান অর্থনৈতিক নীতিতে আমলাতন্ত্র ও বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তার অভিযোগ, দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, বেসরকারি চাকরিজীবী এবং শ্রমজীবী মানুষের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে সরকারের সুস্পষ্ট অর্থনৈতিক পরিকল্পনা দৃশ্যমান নয়।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি। সেখানে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সাধারণ মানুষের সংকট এবং সম্পদের বৈষম্য নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন মাহফুজ আলম।
মাহফুজ আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, নীতিনির্ধারণে সমাজের প্রভাবশালী ও বড় ব্যবসায়ী শ্রেণির স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে না। বিশেষ করে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়টি উপেক্ষিত থাকার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যাদের জীবন-জীবিকা নানা সংকটে রয়েছে, তাদের সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে কেন প্রভাবশালী গোষ্ঠীর চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চা শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিভিন্ন দাবি পূরণে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। তার মতে, এ ধরনের নীতির ফলে সমাজে বিদ্যমান অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও গভীর হতে পারে।
সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সংকটের কথাও নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন মাহফুজ আলম। তার মতে, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ এখন মানুষের জীবনে বড় চাপ তৈরি করছে। এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে বড় ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী মহলকে সন্তুষ্ট করার নীতি গ্রহণ করা হলে তা জনস্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না।
তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মূল দায়িত্ব হলো সাধারণ মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে জনগণের প্রয়োজনকে নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে রাখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কাঠামো ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মাহফুজ আলমের মতে, দেশের উন্নয়নকে টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ করতে হলে সম্পদের বৈষম্য কমানোর নীতি গ্রহণ করা জরুরি। সমাজের একটি সীমিত অংশের হাতে সম্পদ কেন্দ্রীভূত হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
তিনি মনে করেন, বৈষম্য কমানো গেলে উন্নয়নের সুফল আরও বিস্তৃত মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী এবং বেসরকারি কর্মজীবীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সুস্পষ্ট অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
নিজের বক্তব্যের শেষাংশে মাহফুজ আলম ‘অল্টারনেটিভস’-এর নয় দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে এসব দাবির পক্ষে সবাইকে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
তার বক্তব্যে মূলত অর্থনৈতিক সংস্কার, সম্পদের বৈষম্য কমানো, সাধারণ মানুষের মৌলিক সংকটের সমাধান এবং প্রভাবশালী গোষ্ঠীর পরিবর্তে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থকে নীতিনির্ধারণে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।



