রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি আজান আওয়াইসের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১০, ২০২৬, ১১:০৬ এএম

অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি আজান আওয়াইসের

ছবি: সংগৃহীত

মিরপুর টেস্টে নিজের প্রথম ম্যাচেই অসাধারণ এক ইনিংস খেললেন পাকিস্তানের তরুণ ওপেনার আজান আওয়াইস। অভিষেক ম্যাচেই তিন অঙ্কের মাইলফলক স্পর্শ করে তিনি ম্যাচের অন্যতম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। তার ধৈর্যশীল ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে পাকিস্তান শক্ত অবস্থানে পৌঁছে যায় বাংলাদেশের বিপক্ষে।

তৃতীয় দিনের খেলা শুরু হয় পাকিস্তানের ইনিংসকে ঘিরে বাড়তি উত্তেজনা নিয়ে। দ্বিতীয় দিন শেষে ৮৫ রানে অপরাজিত ছিলেন আজান আওয়াইস। সকালের প্রথম ঘণ্টাতেই বাংলাদেশের বোলাররা দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালান, তবে অভিজ্ঞতার মতোই শান্ত ও স্থির ব্যাটিংয়ে প্রতিটি চাপ সামলে নেন এই তরুণ ওপেনার।

ধীরে ধীরে রান বাড়াতে থাকেন আজান। কোনো ঝুঁকিপূর্ণ শট না খেলে তিনি স্ট্রাইক রোটেট করে ইনিংসকে এগিয়ে নেন। সঠিক বল নির্বাচন, নিখুঁত টাইমিং এবং ধৈর্যশীল মনোভাব তাকে বড় ইনিংস গড়ার পথে এগিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত নাহিদ রানার একটি ওভারে একক রান নিয়ে তিনি পৌঁছে যান কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কে। অভিষেক ম্যাচেই সেঞ্চুরি পূর্ণ হওয়ায় পাকিস্তানি শিবিরে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।

সেঞ্চুরির পরপরই মাঠে আব্দুল্লাহ ফজল ব্যাটিংয়ে আসেন এবং এক রান নিয়ে দলীয় সংগ্রহকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করান। তখন পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ১ উইকেটে ২০০ রানের বেশি, যা ম্যাচে তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে।

এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছিল ৪১৩ রানে। বড় সংগ্রহ গড়লেও মিরপুরের ব্যাটিং সহায়ক পিচে পাকিস্তানের ব্যাটাররা শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিতভাবে খেলতে থাকে। বল ব্যাটে ভালো আসায় রান তুলতে খুব একটা সমস্যায় পড়তে হয়নি সফরকারীদের।

বাংলাদেশের বোলাররা উইকেটের খোঁজে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিলেও সাফল্য খুব বেশি আসেনি। বিশেষ করে ফিল্ডিংয়ে কিছু সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় চাপ তৈরি করতেও ব্যর্থ হন তারা। ফলে পাকিস্তান ধীরে ধীরে বড় জুটির দিকে এগিয়ে যায়।

আজান আওয়াইসের ইনিংসটি শুধু রান সংগ্রহের দিক থেকেই নয়, বরং মানসিক দৃঢ়তার দিক থেকেও প্রশংসা কুড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটের চাপ সামলে অভিষেকেই সেঞ্চুরি করা সহজ বিষয় নয়। তার এই ইনিংস পাকিস্তান দলে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে অপর অভিষিক্ত ব্যাটার আব্দুল্লাহ ফজলও ভালো ছন্দে ব্যাট করছেন। তিনি এখন অর্ধশতকের পথে এগোচ্ছেন। দুই তরুণ ওপেনারের ব্যাটিংয়ে পাকিস্তান বড় সংগ্রহের দিকে এগোচ্ছে, যা ম্যাচের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

মিরপুর স্টেডিয়ামের পরিবেশে সকাল থেকেই ছিল ব্যাটিং সহায়ক কন্ডিশন। রোদ ঝলমলে আবহাওয়া ও উইকেটের স্থিরতা ব্যাটারদের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করে। পাকিস্তানের ব্যাটাররা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের বোলারদের আরও আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা ও ধারাবাহিকতা প্রয়োজন ছিল। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে একই লাইন-লেংথে বল করলে এই ধরনের ব্যাটিং উইকেটে উইকেট পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।

সব মিলিয়ে মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিন এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের দিকেই বেশি ঝুঁকে আছে। আজান আওয়াইসের অভিষেক সেঞ্চুরি ম্যাচটিকে নতুন মোড় দিয়েছে এবং আগামী সেশনগুলোতে ম্যাচ আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!