প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
সিলেট টেস্টে দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে টেনে নেয় বাংলাদেশ। মেঘলা আকাশ আর আর্দ্র কন্ডিশনের সুবিধা নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপেনিং জুটিকে দ্রুত ভেঙে দেন পেসার তাসকিন আহমেদ। তার আগ্রাসী ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে সফরকারী দল।
প্রথম দিনের খেলা শেষে পাকিস্তান কোনো উইকেট না হারিয়ে ২১ রান সংগ্রহ করেছিল। তবে দ্বিতীয় দিনে ভোরের সেশনে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। আলো-আঁধারি পরিবেশে বল দারুণভাবে সুইং করছিল, আর সেই সুযোগই কাজে লাগান বাংলাদেশের বোলাররা।
ইনিংসের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছন্দে ছিলেন তাসকিন আহমেদ। দ্বিতীয় ওভারেই তিনি প্রথম সাফল্য এনে দেন। তার নিখুঁত লাইন ও লেন্থে ব্যাটের হালকা ছোঁয়া লাগে ওপেনারের ব্যাটে, আর বল চলে যায় উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে। লিটন অসাধারণ ডাইভ দিয়ে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে দারুণ একটি ক্যাচ সম্পন্ন করেন, যা দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দেয়।
প্রথম উইকেটের পরও থেমে থাকেননি তাসকিন। ধারাবাহিক চাপ বজায় রেখে তিনি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন, ফলে পাকিস্তানের শুরুর জুটি ভেঙে পড়ে দ্রুত। একই সময়ে অপর প্রান্ত থেকে শরীফুল ইসলামের নিয়ন্ত্রিত বোলিং সফরকারীদের আরও অস্বস্তিতে ফেলে দেয়।
দুই বোলারের এই সমন্বিত আক্রমণে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। সকালের সেশনে রান তুলতে গিয়ে তারা বারবার চাপে পড়ে যায় এবং নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে।
এর আগে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে সংগ্রহ করে ২৭৮ রান। দলের হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন লিটন দাস, যিনি খেলেন অসাধারণ ১২৬ রানের ইনিংস। তার ব্যাটিংয়ে ভর করেই বাংলাদেশ একটি প্রতিযোগিতামূলক স্কোর গড়ে তোলে।
লিটনের এই সেঞ্চুরির পাশাপাশি নিচের দিকের ব্যাটারদের কিছু কার্যকর অবদান দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়। এখন সেই সংগ্রহকে আরও বড় করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে বোলারদের ওপরই ভরসা রাখছে বাংলাদেশ শিবির।
দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই তাসকিনের আগ্রাসী বোলিং এবং লিটনের দুর্দান্ত ক্যাচ ম্যাচের গতি বদলে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই চাপ ধরে রেখে বাংলাদেশ কতটা দ্রুত প্রতিপক্ষকে গুটিয়ে দিতে পারে।



