প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
ফুটবলের ইতিহাসে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত রয়েছে, তবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে কাতারের মাটিতে লিওনেল মেসির হাতে বিশ্বকাপ শিরোপা ওঠার দৃশ্যটি বিশেষভাবে স্থান করে নিয়েছে কোটি ভক্তের হৃদয়ে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রায় সব অর্জনই নিজের করে নেওয়া এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা সেদিন পূর্ণতা পেয়েছিলেন বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে। সেই সাফল্যের পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, আন্তর্জাতিক ফুটবলে হয়তো আর বেশিদিন দেখা যাবে না তাকে।
কিন্তু সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আবারও জাতীয় দলের জার্সিতে বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছেন মেসি। নতুন আসরের শুরু হয়ে গেলেও এখনো মাঠে নামেনি আর্জেন্টিনা। ফলে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রথম ম্যাচ।
আর্জেন্টিনার শিবির থেকে অবশ্য এসেছে স্বস্তিদায়ক খবর। দলের প্রধান প্রশিক্ষক লিওনেল স্কালোনি জানিয়েছেন, মেসি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং প্রথম ম্যাচের জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে মেসি দারুণ ছন্দে রয়েছেন। সাম্প্রতিক ছোটখাটো শারীরিক সমস্যাগুলোও কাটিয়ে উঠেছেন দলের সদস্যরা।
আসন্ন ম্যাচটি মেসির জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামলেই তিনি স্পর্শ করবেন আরেকটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটি হবে তার দুইশতম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ফুটবল ইতিহাসে এমন কীর্তি গড়তে পেরেছেন খুব কম সংখ্যক খেলোয়াড়।
শুধু আর্জেন্টিনা নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবলপ্রেমীরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন মেসির খেলা দেখার জন্য। স্কালোনির মতে, মেসির জনপ্রিয়তা কোনো নির্দিষ্ট দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার খেলা উপভোগ করতে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ মুখিয়ে থাকেন। মাঠে তার উপস্থিতি পুরো দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং দর্শকদের জন্যও হয়ে ওঠে বিশেষ আকর্ষণ।
প্রশিক্ষক আরও জানান, মেসি শুধু মাঠের খেলোয়াড় নন, তিনি দলের অন্যতম অনুপ্রেরণার উৎস। সতীর্থদের সঙ্গে তার সম্পর্ক, নেতৃত্ব এবং দায়িত্ববোধ দলকে শক্তিশালী করে। তাই আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচকে ঘিরে যতটা উত্তেজনা রয়েছে, তার বড় অংশজুড়েই রয়েছেন এই কিংবদন্তি।
বিশ্বকাপের নতুন অধ্যায়ে মেসি আরেকবার নিজের জাদু দেখাতে পারবেন কি না, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, তিনি মাঠে নামলেই কোটি ভক্তের চোখ থাকবে একটিমাত্র নামের দিকে—লিওনেল মেসি।



