প্রকাশিত: আগস্ট ৭, ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, সরকার তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলে তিনি দেশে ফিরতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হত্যা মামলাসহ সব আইনি অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতেও তিনি রাজি বলে জানিয়েছেন।
এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ভিত্তিহীন মনে করেন এবং আদালতের মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে চান। তার ভাষায়, তিনি কোনো অন্যায় করেননি। তাই আইনগত প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে তার আপত্তি নেই। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে তিনি আনন্দের সঙ্গেই দেশে ফিরবেন বলেও উল্লেখ করেন।
বর্তমানে সাকিব শ্রীলঙ্কার একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে এখনো অবসর নেননি। দেশে ফিরে একটি বিদায়ী আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলতে চান। পাশাপাশি ২০২৭ সালের একদিনের আন্তর্জাতিক বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জার্সিতে মাঠে নামাও তার অন্যতম লক্ষ্য।
রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ তুলে সাকিব বলেন, অতীতে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং সেই সময়ের পর আর দেশে ফেরা হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর বাংলাদেশে তার ফাঁকা বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। এ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ওই অনুষ্ঠানে তিনি শুধু দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের কথা বলেছেন। এ বিষয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই বলেও জানান।
সাকিব আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তার আইনজীবীর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হয়েছিল। তবে সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।
দেশে ফেরার বিষয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন সাকিব। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সাকিবের এই বক্তব্য দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তার দেশে ফেরা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখন অনেকটাই সরকারের সিদ্ধান্ত এবং আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



