প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর সঙ্গে কথিত সম্পর্ক থাকা এক নারীকে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে দাবি করেছেন ইনফান্তিনোর মুখপাত্র।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইনফান্তিনো যখন ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন, তখন ওই নারীর সঙ্গে তাঁর কথিত সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ওই নারীকে ছয় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে অর্থ প্রদানের বিষয়টি অস্বীকার করেনি ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা। তাদের ভাষ্য, এটি ছিল ওই কর্মীর জন্য বিদায়ী অর্থ। পাশাপাশি স্থানীয় একটি ব্যবসায়িক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁর ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর পড়াশোনার ব্যয়ও ওই অর্থের অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানানো হয়েছে।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, সে সময়কার প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ করেই অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং বর্তমানে কর্মীদের জন্য আরও আধুনিক ও কঠোর নীতিমালা কার্যকর রয়েছে।
ইনফান্তিনো ২০০০ সালে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থায় যোগ দেন। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে তিনি সংস্থাটির মহাসচিবের দায়িত্ব পান। ২০১৬ সালে ফিফা সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ওই পদে ছিলেন। দীর্ঘ সময়ে ইউরোপীয় ফুটবলের প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।
এদিকে ইনফান্তিনোর মুখপাত্র অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর দাবি, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অনুপযুক্ত আচরণের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা কিংবা ফিফার কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীও এ ধরনের আচরণ নিয়ে কখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি বলে দাবি করা হয়েছে।
মুখপাত্র আরও বলেছেন, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইনফান্তিনোর সঙ্গে ওই ধরনের কোনো অনুপযুক্ত ঘটনা ঘটেনি।
অন্যদিকে অর্থ প্রদানের বিষয়টি স্বীকার করলেও ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা সেটিকে অনৈতিক বা বেআইনি কোনো লেনদেন হিসেবে উল্লেখ করেনি। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট সময়ে প্রচলিত নিয়মের আওতাতেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়েছিল।
ফলে অভিযোগ, অর্থ প্রদানের ঘটনা এবং ইনফান্তিনোর মুখপাত্রের বক্তব্য—সব মিলিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ফিফা সভাপতির ব্যক্তিগত জীবন ও তাঁর অতীত কর্মজীবন। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বিবেচনা করা প্রয়োজন।



