প্রকাশিত: আগস্ট ১১, ২০২৬, ১১:১১ এএম
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিশ্ব ফুটবলে যখন নেতৃত্বের সংকট ও বিরোধ তীব্র হচ্ছে, ঠিক তখনই তার পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইনফান্তিনোকে পদ থেকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে সেটি বড় ভুল হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তার দাবি, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজনের পেছনে ফিফা সভাপতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ইনফান্তিনোকে সরিয়ে দিলে ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ একই মাত্রায় সফল ও লাভজনক হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে ফুটবল বিশ্বের প্রভাবশালী কয়েকটি আঞ্চলিক সংস্থার সঙ্গে ফিফার প্রকাশ্য বিরোধ তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা, এশীয় ফুটবল সংস্থা এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা যৌথভাবে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে গুরুতর আস্থাভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে। তারা বিষয়টিকে শুধু যোগাযোগের ঘাটতি হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেছে।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ফিফার ‘ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ পরিকল্পনা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ফিফার বাণিজ্যিক অধিকার ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়কে একটি পৃথক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অধীনে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের কথাও ছিল। ফিফার ব্যাখ্যা ছিল, এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে আরও বেশি অর্থ দেওয়া সম্ভব হবে।
তবে পরিকল্পনাটি প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন মহলে তীব্র আপত্তি ওঠে। সমালোচকদের আশঙ্কা ছিল, বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বার্থে বাইরের বিনিয়োগ যুক্ত হলে ফুটবলের পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। এ নিয়ে ইউরোপসহ কয়েকটি অঞ্চলের ফুটবল কর্তৃপক্ষ ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা হারানোর কথা জানায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ফিফা পরে ওই বিতর্কিত উদ্যোগ থেকে সরে আসে। ইনফান্তিনো ও ফিফার মহাসচিব প্রক্রিয়াটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানোর আশ্বাস দেন। কিন্তু তাতেও সমালোচনা পুরোপুরি থামেনি। বরং কয়েকটি কনফেডারেশন বিষয়টি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে তদন্তের দাবি তুলেছে।
এর মধ্যেই ফিফার নেতৃত্ব নিয়ে আগামী নির্বাচনের আলোচনা সামনে এসেছে। ইনফান্তিনো পুনর্নির্বাচনের পথে এগোচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফিফার পক্ষ থেকে অবশ্য তার নেতৃত্বকে দুর্বল করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, বিতর্কের মূল বিষয় হলো নেতৃত্বের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সদস্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক।
ফলে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে ইনফান্তিনোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দৃঢ় সমর্থন, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থার বিরোধ—সব মিলিয়ে ফিফার নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে উত্তেজনা আরও বাড়ছে।



