প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভুয়া পরিচয়, কৃত্রিমভাবে তৈরি ছবি এবং বিভ্রান্তিকর কথোপকথনের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ফেসবুক। এ লক্ষ্যে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে একটি নতুন পরিচয় যাচাইকরণ চিহ্ন চালু করার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই সুবিধার মাধ্যমে প্রকৃত ব্যবহারকারীকে সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন ব্যবস্থায় পরিচয় যাচাই করতে আগ্রহী ব্যবহারকারীকে একটি সংক্ষিপ্ত নিজের মুখের চলমান দৃশ্য ধারণ করে জমা দিতে হবে। এরপর সেই দৃশ্যটি ব্যবহারকারীর পূর্বে সংযুক্ত ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। যাচাই সফল হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত হিসাবে একটি বিশেষ পরিচয়চিহ্ন যুক্ত হবে, যা জানিয়ে দেবে যে ওই হিসাবে একজন প্রকৃত ব্যক্তি রয়েছেন এবং তিনি নির্ধারিত যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এটি অর্থের বিনিময়ে দেওয়া পরিচয় যাচাইকরণ সুবিধার অংশ নয়। বরং সাধারণ ব্যবহারকারীদের নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতেই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। ফলে যে কেউ নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারলে অতিরিক্ত কোনো অর্থ ব্যয় ছাড়াই এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় ভুয়া পরিচয় তৈরি, বাস্তবসম্মত ছবি নির্মাণ এবং প্রতারণামূলক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া অনেক সহজ হয়ে গেছে। এতে সাধারণ মানুষ প্রতারকদের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকিতে থাকছেন। নতুন পরিচয় যাচাইকরণ চিহ্ন ব্যবহারকারীদের বুঝতে সহায়তা করবে যে তারা যাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, তিনি অন্তত যাচাইকৃত একজন প্রকৃত ব্যক্তি।
প্রথম পর্যায়ে এই পরিচয়চিহ্ন ব্যক্তিগত হিসাব, কেনাবেচার বিভাগ, পরিচিতি তৈরির বিভাগ এবং বিভিন্ন দলের আলোচনায় দৃশ্যমান হবে। পরবর্তী সময়ে সাধারণ প্রকাশনাতেও এটি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে কেনাবেচা বা যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা ব্যবহারকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করেছে, পরিচয়চিহ্ন থাকার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সব কার্যক্রমের দায়িত্ব তারা গ্রহণ করছে। যাচাইকৃত ব্যবহারকারীকেও নির্ধারিত নীতিমালা মেনে চলতে হবে। কোনো ধরনের প্রতারণা, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বা নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই সুবিধা গ্রহণের জন্য ব্যবহারকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট হিসাবের বিরুদ্ধে প্রতারণা বা বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ডের ইতিহাস থাকা যাবে না। যেসব হিসাব বিশেষ ব্যবসায়িক ব্যবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে আপাতত এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, অনলাইনে ভুয়া পরিচয়ের বিস্তার রোধ এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি নিয়েও ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা থাকা প্রয়োজন। ধাপে ধাপে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এই সুবিধা চালু করা হবে বলে জানা গেছে।



