প্রকাশিত: মে ২১, ২০২৬, ১১:১১ এএম
শিক্ষাজীবনের একঘেয়েমি ভেঙে তরুণদের প্রাণে নতুন উদ্দীপনা ছড়িয়ে দিতেজমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো “প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি ইনডোর গেমস কার্নিভাল ২০২৬”।দুই দিনব্যাপী এই বর্ণিল আয়োজনকে ঘিরে রাজধানীর প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস পরিণত হয়েছিল প্রাণচঞ্চল টেবিল টেনিস, দাবা ও ক্যারামের প্রতিযোগিতায় মেধা, কৌশল ও সম্প্রীতির অনন্য এক মিলনমেলায়, যেখানে প্রতিযোগিতা ছিল, ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস, বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সুস্থ বিনোদনের অনন্য সমন্বয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গেমস অ্যান্ড স্পোর্টস ক্লাবের উদ্যোগে এবং অফিস অব স্ট্র্যাটেজিক অপারেশনস ও স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের সহযোগিতায় গত ১৮ ও ১৯ মে অনুষ্ঠিত এই কার্নিভালে অংশ নেন বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। টেবিল টেনিস, দাবা ও ক্যারাম—এই তিনটি জনপ্রিয় ইনডোর গেমকে কেন্দ্র করে পুরো ক্যাম্পাসে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
উদ্বোধনী আয়োজনে প্রাণের উচ্ছ্বাস:
১৮ মে সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির প্রিন্সিপাল অ্যাডভাইজার প্রফেসর ড. আনোয়ারুল কবির। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন,
“শিক্ষা কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, ধৈর্য, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং দলগত চেতনা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটি সুস্থ ও মানবিক সমাজ গঠনে এমন আয়োজন অত্যন্ত প্রয়োজন।”
তার বক্তব্যে তিনি তরুণদের মানসিক বিকাশ, প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্য রক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। উদ্বোধনের পরপরই করতালি ও উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রতিযোগিতা।
বুদ্ধি, কৌশল ও দক্ষতার লড়াই:
দুই দিনব্যাপী চলা প্রতিযোগিতায় টেবিল টেনিসের দ্রুত গতি, দাবার গভীর চিন্তাশক্তি এবং ক্যারামের সূক্ষ্ম কৌশল দর্শকদের মুগ্ধ করে। প্রতিটি ম্যাচ ঘিরে ছিল টানটান উত্তেজনা। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
বিশেষ করে দাবা প্রতিযোগিতায় তরুণ প্রতিযোগীদের কৌশলী চাল এবং টেবিল টেনিসে দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল খেলায় দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। ক্যারাম বোর্ড ঘিরেও ছিল উৎসুক দর্শকের ভিড়। অনেকেই এটিকে “ক্যাম্পাস জীবনের অন্যতম প্রাণবন্ত আয়োজন” হিসেবে অভিহিত করেন।
তরুণদের মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব:
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর ও ভার্চুয়াল জীবনের প্রভাবে তরুণদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ ও মানসিক চাপের সমস্যা বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা, আত্মবিশ্বাস ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন,
“এই ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের শুধু বিনোদন দেয় না; বরং তাদের নেতৃত্বগুণ, শৃঙ্খলা, সহনশীলতা এবং ইতিবাচক প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়তা করে।”
স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস পরিশ্রম:
অনুষ্ঠান সফল করতে নিরলসভাবে কাজ করেন গেমস অ্যান্ড স্পোর্টস ক্লাবের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা। প্রতিযোগিতা পরিচালনা, অংশগ্রহণকারীদের সমন্বয়, দর্শকদের ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে সার্বিক তদারকিতে তাদের সক্রিয় ভূমিকা প্রশংসিত হয়। স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও পুরো আয়োজনকে সুশৃঙ্খল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
পুরস্কার বিতরণীতে জমকালো সমাপ্তি:
অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কার্নিভালের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। বিজয়ীদের হাতে ট্রফি, মেডেল ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির প্রিন্সিপাল অ্যাডভাইজার প্রফেসর ড. আনোয়ারুল কবির, স্কুল অব বিজনেসের ডিন প্রফেসর আবুল কালাম, স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন প্রফেসর ড. শহীদুল ইসলাম খান, রেজিস্ট্রার মো. সাকির হোসেন, কন্ট্রোলার অব এক্সামিনেশনস মো. জাহেদুর রহমান, স্পোর্টস ডিরেক্টর ও বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ ওমর বেলিম এবং স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক আফরোজা হেলেনসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একাডেমিক শিক্ষার কেন্দ্র নয়; এটি একটি মানবিক, সৃজনশীল ও নেতৃত্ববান প্রজন্ম তৈরির প্ল্যাটফর্ম। তাই সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস:
কার্নিভালে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন পর এমন প্রাণবন্ত আয়োজন তাদের ক্যাম্পাস জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অনেকে বলেন, “এই আয়োজন আমাদের মধ্যে নতুন বন্ধুত্ব তৈরি করেছে, আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করেছে।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আরও বড় পরিসরে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আয়োজন করা হবে।
শেষ পর্যন্ত, “প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি ইনডোর গেমস কার্নিভাল ২০২৬” শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; বরং এটি ছিল তারুণ্যের শক্তি, সম্প্রীতি, মেধা ও সুস্থ বিনোদনের এক অনন্য উদযাপন—যা অংশগ্রহণকারীদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।



