রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিদায় নিলেন দি পিপল‍‍`স ইউনিভার্সিটির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ৫২তম ব্যাচ

বিজয় আহমেদ

প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

বিদায় নিলেন দি পিপল‍‍`স ইউনিভার্সিটির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ৫২তম ব্যাচ

ছবি: প্রতিনিধি

শিক্ষাজীবনের এক স্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবেগঘন মিলন, ৮৭ বছর বয়সী এক প্রবীণ শিক্ষার্থীর অনন্য অর্জনের স্বীকৃতি এবং জুলাই বিপ্লবের বীরদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দ্য পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের এম. এ ফাইনাল (৫২তম ব্যাচ)-এর বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।


অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক আবেগ, অনুপ্রেরণা ও গৌরবের মিলনমেলায়। বিদায়ের বিষণ্নতার পাশাপাশি শিক্ষাজীবনের নানা স্মৃতি, শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ পথচলার প্রত্যয়ে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।


অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে বিদায়ী শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রিয় শিক্ষকদের  সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের সফল সমাপ্তি উপলক্ষে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।


মুক্ত আলোচনা পর্বে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা স্মৃতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্তরিক সম্পর্ক, শিক্ষাঙ্গনের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন। আবেগঘন এ পর্বে অনেকেই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। তাঁদের বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা এবং আত্মিক বন্ধনের প্রকাশ ঘটে।


অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও অনুপ্রেরণাদায়ক মুহূর্ত ছিল ৮৭ বছর বয়সী এক প্রবীণ শিক্ষার্থীর বিশেষ সংবর্ধনা। বয়সের ভারকে উপেক্ষা করে অধ্যবসায়, দৃঢ় মনোবল এবং শিক্ষার প্রতি অদম্য আগ্রহ নিয়ে তিনি সফলভাবে এমএ ফাইনাল সম্পন্ন করেছেন। তাঁর এই অসাধারণ অর্জনকে সম্মান জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।


সম্মাননা গ্রহণকালে আবেগাপ্লুত এই প্রবীণ শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষা অর্জনের জন্য বয়স কখনো বাধা হতে পারে না। মানুষের ইচ্ছাশক্তি  থাকলে জীবনের যেকোনো পর্যায়ে নতুন করে শেখা সম্ভব। তাঁর এই বক্তব্য উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অতিথিদের মধ্যে ব্যাপক অনুপ্রেরণার সৃষ্টি করে। দীর্ঘ করতালির মাধ্যমে তাঁকে অভিনন্দন জানান সবাই।

 


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দ্য পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সম্মানিত সদস্য মাহমুদুর রহমান সুমন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভাগীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।


প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কখনো তার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না। শিক্ষাজীবন শেষ হলেও এই ক্যাম্পাস সবসময় তাঁদের আপন ঠিকানা হয়ে থাকবে। কর্মজীবনে নিজেদের দক্ষতা, সততা ও মানবিকতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও স্বপ্নদ্রষ্টাদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে জুলাই বিপ্লবের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রাম জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। দেশের অগ্রযাত্রা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় নতুন প্রজন্মকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।


অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের পক্ষ থেকেও বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেওয়া হয়। তাঁরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত জ্ঞান, নৈতিকতা ও মূল্যবোধকে ধারণ করে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের মানবিক, নৈতিক ও আদর্শিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা।


অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সফল কর্মজীবন, সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অতিথিরা স্মৃতিচারণমূলক আলোকচিত্রে অংশ নেন।


৮৭ বছর বয়সী এক প্রবীণ শিক্ষার্থীর অনন্য সাফল্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবেগঘন বিদায় এবং জুলাইয়ের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ৫২তম ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠান উপস্থিত সবার কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!