প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সৃজনশীলতা ও আনন্দের মাধ্যমে শেখার সুযোগ বাড়াতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যক্রমে নতুন বিষয় যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘আনন্দের সঙ্গে শেখা’ নামে একটি নতুন পাঠ্যপুস্তক যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরের বছর অর্থাৎ ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতেও ‘খেলাধুলা’ বিষয়টি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘খেলায় খেলায় শিখি’ তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব পরিকল্পনার কথা জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে আগামী সপ্তাহের মধ্যে একটি নতুন পাঠ্যক্রম প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি ২০২৮ শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে নতুন পাঠ্যপুস্তক ও পাঠ্যক্রম তৈরির কাজ করবে। সেখানে মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের আনন্দের সঙ্গে শেখা, খেলাধুলায় অংশগ্রহণ এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি জানান, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ তৈরি করা গেলে শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার পাশাপাশি বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকেও দূরে রাখা সম্ভব। এ লক্ষ্যেই প্রাথমিক পর্যায় থেকে ‘খেলায় খেলায় শিখি’ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কর্মশালায় প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীও খেলাধুলাভিত্তিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তার মতে, খেলাধুলা ও আনন্দের মাধ্যমে শেখার সুযোগ শিশুদের চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
এদিকে শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো চালুর বিষয়েও সরকার চিন্তাভাবনা করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষকদের দায়িত্ব, মর্যাদা ও জাতি গঠনে তাদের ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে পৃথক বেতন কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ ছাড়া রাজধানীর পূর্বাচলে একটি ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। সামগ্রিকভাবে নতুন পরিকল্পনার লক্ষ্য হচ্ছে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সৃজনশীলতা ও আনন্দকে শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।



