রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জ্বালানি সংকটে বুয়েটে প্রতিদিন ৫ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের সূচি ঘোষণা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০৩:১২ পিএম

জ্বালানি সংকটে বুয়েটে প্রতিদিন ৫ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের সূচি ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিদিন পাঁচ ঘণ্টা করে নির্ধারিত লোডশেডিং কার্যকর করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির কারণে ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজ থেকে ক্যাম্পাসে দিনে ও রাতে পাঁচ দফায় এক ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দিনের বেলায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় নিজস্ব জেনারেটর চালিয়েও পুরো ক্যাম্পাসে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

রোববার (২৩ আগস্ট) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে জারি করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। প্রধান প্রকৌশলী ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদ, বিভাগ, দপ্তর, আবাসিক হল ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে ৭টা, সকাল ১০টা থেকে ১১টা, দুপুর ২টা থেকে ৩টা, রাত ১২টা থেকে ১টা এবং রাত ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ দিনের বেলাতেই তিন ঘণ্টা এবং রাতের বেলায় আরও দুই ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের মুখোমুখি হবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণত বিদ্যুৎ না থাকলে বিকল্প হিসেবে জেনারেটরের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করা হয়। তবে বর্তমানে দিনের বেলায় গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কম থাকায় জেনারেটর চালিয়ে পুরো ক্যাম্পাস সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও আবাসিক হলের বিভিন্ন সেবায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কর্তৃপক্ষ বলেছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এই সূচির প্রয়োজন থাকবে না এবং পরিস্থিতি উন্নত হলেই আগের মতো নিয়মিত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

লোডশেডিংয়ের নির্ধারিত সূচি প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের অনেকেই মনে করছেন, দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট পড়াশোনা ও গবেষণার পরিবেশকে ব্যাহত করতে পারে। বিশেষ করে পরীক্ষাগারভিত্তিক শিক্ষা, প্রকল্পের কাজ এবং দীর্ঘ সময় কম্পিউটারনির্ভর গবেষণায় বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ জ্বালানি পরিকল্পনা ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের বক্তব্য, শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করলেই হবে না; সেই উৎপাদন সচল রাখতে গ্যাস, কয়লা ও অন্যান্য জ্বালানির দীর্ঘমেয়াদি নিরাপদ সরবরাহও নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে সংকট দেখা দিলে বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা এবং দেশের নিজস্ব জ্বালানি অনুসন্ধানও সমান গুরুত্ব পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী ড. এ কে এম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লোডশেডিং এড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারলেই ক্যাম্পাসেও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তবে এই লোডশেডিং কতদিন চলবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেননি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত পৌঁছেছে। বুয়েটে নির্ধারিত এই পাঁচ ঘণ্টার লোডশেডিং কতদিন অব্যাহত থাকে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হয়, সেদিকেই এখন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার নজর।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!