প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম
দেশের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগছে, যার মধ্যে প্রতি সাতজন আক্রান্তের পাঁচজনই নারী। তবে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আক্রান্তদের প্রায় ৬০ শতাংশই চিকিৎসার আওতার বাইরে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শনাক্তকরণে গুরুত্ব না দেওয়ায় প্রতিদিনই বাড়ছে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা এড়াতে জন্মের পরপরই শিশুদের থাইরয়েড পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিনমাস কনফারেন্স কক্ষে বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটি ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। আসন্ন ২৫ মে বিশ্ব থাইরয়েড দিবস উপলক্ষে ‘আন্তর্জাতিক থাইরয়েড সচেতনতা সপ্তাহ’ ঘিরেই এই আয়োজন করা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, প্রতি ২৩০০ শিশুর মধ্যে একজন জন্মগত থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। যেসব পরিবারে থাইরয়েড রোগী রয়েছে, তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকেরা জানান, আক্রান্তদের একটি বড় অংশ হাইপোথাইরয়েডিজমে ভুগছেন, যার লক্ষণ হিসেবে ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, কোষ্ঠকাঠিন্য ও ঠান্ডা সহ্য করতে না পারার মতো সমস্যা দেখা দেয়। অথচ অনেকেই এসব উপসর্গ সম্পর্কে সচেতন নন।
বিটিএস সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী বলেন, থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের হরমোন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি বিপাকক্রিয়া, হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, ওজন ও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এই গ্রন্থিতে সমস্যা দেখা দিলে শরীরের নানা কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং জটিল রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে সহজেই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হলেও সচেতনতার অভাব ও সময়মতো পরীক্ষা না করানোর কারণে ঝুঁকি বাড়ছে। দেশে থাইরয়েড বিষয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা ও বাজেট না থাকায় প্রকৃত চিত্রও স্পষ্ট নয়।
চিকিৎসকদের মতে, জীবনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে থাইরয়েড পরীক্ষা করা প্রয়োজন—জন্মের পরপর, বয়ঃসন্ধিকালে, গর্ভধারণের আগে এবং ৫০ বছর বয়সের পর।
অন্য এক বক্তা জানান, দেশে প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি মানুষ থাইরয়েড সমস্যায় ভুগতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্যের অভাব রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে এই রোগ মস্তিষ্কের বিকাশেও প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে।
বৈঠকে আরও বলা হয়, এখনো দেশের অর্ধেক মানুষই থাইরয়েড সম্পর্কে সচেতন নন। বিশেষ করে প্রান্তিক অঞ্চলে সচেতনতার ঘাটতি বেশি। তাই জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।



