প্রকাশিত: মে ১৪, ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে স্থায়ী জামিন দিয়েছেন আদালত। তবে মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে আদালতে ব্যক্তিগত উপস্থিতি থেকে অব্যাহতি চেয়ে করা আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতেও তাকে সশরীরে আদালতে হাজির হতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মহানগর দায়রা জজ আদালতে শুনানি শেষে বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে আদালত বিদেশযাত্রার বিষয়ে করা আবেদনও মঞ্জুর করেছেন বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সকালে আনিস আলমগীর আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনটি পৃথক আবেদন করেন। এর মধ্যে ছিল স্থায়ী জামিন, আদালতে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি চেয়ে আবেদন। শুনানি শেষে বিচারক স্থায়ী জামিন ও বিদেশযাত্রা সংক্রান্ত আবেদন গ্রহণ করলেও আদালতে উপস্থিতি মওকুফের আবেদন নাকচ করে দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি বলেন, আদালত তার মক্কেলের স্থায়ী জামিন বহাল রেখেছেন। পাশাপাশি বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রেও কোনো বাধা রাখেননি। তবে মামলার শুনানিতে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজির হতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যান। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। কয়েকদিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এরপর চলতি বছরের জানুয়ারিতে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে পৃথক মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন। তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আনিস আলমগীরের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে তার মোট সম্পদের পরিমাণ চার কোটির বেশি বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি তার পারিবারিক ব্যয় ও অন্যান্য খরচ যোগ করলে সম্পদের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পায়।
দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তার ঘোষিত আয় ও গ্রহণযোগ্য উৎস থেকে পাওয়া অর্থের সঙ্গে অর্জিত সম্পদের বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে। বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে অতীত সঞ্চয়, বিভিন্ন আলোচনামূলক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, পরামর্শক কার্যক্রম, জমি বিক্রি এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক মুনাফার হিসাব তুলে ধরা হলেও তদন্ত কর্মকর্তারা দাবি করেন, মোট সম্পদের বড় অংশের কোনো গ্রহণযোগ্য উৎস পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তার মোট অর্জিত সম্পদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জ্ঞাত আয়ের বাইরে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা দায়ের করা হয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থায়ী জামিন মঞ্জুর হওয়ায় আপাতত কারাবন্দি হওয়ার আশঙ্কা না থাকলেও মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। আদালতে নিয়মিত হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ থেকে বোঝা যায়, মামলাটিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে আদালতের এই আদেশ ঘিরে রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন, এটি বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক ধাপ; আবার কেউ মনে করছেন, উচ্চপ্রোফাইল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো এখন নতুন মাত্রা পাচ্ছে।
এর আগে মার্চ মাসে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া আরেক মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান আনিস আলমগীর। সেই মামলার পরপরই অবৈধ সম্পদ ও অর্থপাচারের অভিযোগ সামনে আসে।
বর্তমানে এই মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার শুনানি এগিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।



