রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিসিবির অ্যাডহক কমিটি বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম

বিসিবির অ্যাডহক কমিটি বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ফাইল ছবি

বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনকে ঘিরে নতুন করে আইনি আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান অ্যাডহক কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বোর্ডের সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলসহ সাবেক একাধিক পরিচালক। নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন কমিটি গঠনকে অসাংবিধানিক দাবি করে তারা আদালতে রিট আবেদন দাখিল করেছেন।

শনিবার উচ্চ আদালতে দায়ের করা এই রিটে মোট ১২ জন আবেদনকারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্ব পালন করা আরও ১১ জন সাবেক পরিচালক। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে মামলাটি শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হতে পারে।

রিট আবেদনকারীদের অভিযোগ, নির্বাচিত বোর্ডকে হঠাৎ করে ভেঙে দিয়ে একটি অন্তর্বর্তী কমিটি গঠন করা হলেও তাদের কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ দেওয়া হয়নি। এমনকি যে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, সেটির অনুলিপিও তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য কোনো শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তুলেছেন তারা।

ঘটনার পটভূমিতে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে হওয়া ওই নির্বাচনে রিটকারীরা নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের একজন নির্বাহী কর্মকর্তাও সম্পৃক্ত ছিলেন, যা পুরো প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা দেয় বলে মনে করা হয়।

তবে চলতি বছরের এপ্রিলে পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ একটি তদন্ত প্রতিবেদনের উল্লেখ করে নির্বাচিত কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। পরে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে প্রধান করে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। এরপর থেকেই ক্রিকেট অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম হয়।

রিটকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া কিংবা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়াটা ছিল প্রশাসনিক ন্যায্যতার অংশ। কিন্তু বাস্তবে এমন কিছুই করা হয়নি। বরং তারা সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন, যা তাদের কাছে অস্বাভাবিক ও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচিত কোনো কমিটি ভেঙে দিয়ে অন্তর্বর্তী কাঠামো গঠনের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। বিশেষ করে অভিযোগ, তদন্ত ও সিদ্ধান্তের মধ্যকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে এই রিটের মাধ্যমে ক্রিকেট বোর্ডের প্রশাসনিক কাঠামো নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।

এদিকে ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ মনে করছেন, বোর্ড পরিচালনায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। আবার কেউ বলছেন, একটি নির্বাচিত কমিটিকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হয়েছে কি না, সেটি আদালতের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই পরিষ্কার হওয়া উচিত।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বোর্ডের প্রশাসনিক অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদে দেশের ক্রিকেটের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ মাঠের খেলায় উন্নতি ধরে রাখতে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল প্রশাসনিক কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই পরিস্থিতিতে আদালতের সিদ্ধান্ত দেশের ক্রিকেট পরিচালনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এখন সবার নজর আগামী সপ্তাহের শুনানির দিকে। আদালত যদি রিট গ্রহণ করে বিস্তারিত শুনানি শুরু করেন, তাহলে ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান কাঠামো ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বড় ধরনের আইনি বিতর্ক সামনে আসতে পারে। একই সঙ্গে নির্বাচিত ও অন্তর্বর্তী কমিটির বৈধতা নিয়ে নতুন প্রশ্নও তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে এই রিট নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এখন দেখার বিষয়, আদালতের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!