রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শাপলা চত্বর হত্যা মামলায় ৪১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ০১:০৫ পিএম

শাপলা চত্বর হত্যা মামলায় ৪১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন

ফাইল ছবি

২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তাদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনটিতে মোট ৪১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

রোববার সকালে প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে। প্রধান প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তদন্ত সংস্থা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বর্তমানে প্রসিকিউশন প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করছে এবং আগামী ২১ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এটি দাখিল করা হবে।

তদন্ত প্রতিবেদনে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজসহ তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কয়েকজন গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলো ট্রাইব্যুনালে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে যাচাই করা হবে।

এদিকে মামলার সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেছে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ। এ সময় সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি মীর ইদ্রিসসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। তারা তদন্ত কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হন এবং বিচার প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে ১৩ দফা দাবিতে রাজধানীর শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। দিনব্যাপী উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানে সমাবেশস্থল খালি করা হয়। ওই অভিযানে বহু মানুষ নিহত ও আহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত চলার পর অবশেষে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়েছে, যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দাখিলের পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!