রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দুর্নীতির মামলায় সাবেক উপ-গভর্নরের তিন বছরের সাজা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ১২:০১ পিএম

দুর্নীতির মামলায় সাবেক উপ-গভর্নরের তিন বছরের সাজা

সংগৃহীত

সম্পদের হিসাব বিবরণী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাখিল না করার অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক উপ-গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর, যিনি এস কে সুর চৌধুরী নামেও পরিচিত, তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে দুর্নীতি-সংক্রান্ত মামলায় আইন অনুযায়ী জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বার্তা আরও জোরালো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক আয়েশা নাসরিন এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র এবং উভয় পক্ষের উপস্থাপিত যুক্তি পর্যালোচনা শেষে এ রায় দেওয়া হয়। এর আগে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর আদালত রায় ঘোষণার জন্য এ দিন নির্ধারণ করেছিলেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ ওঠার পর তাকে নিজের এবং তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে কিংবা বেনামে থাকা সব ধরনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা, আয়ের উৎস এবং সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নোটিশ পাওয়ার পরও আইন অনুযায়ী নির্ধারিত একুশ কার্যদিবসের মধ্যে তিনি সেই বিবরণী দাখিল করেননি।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন উপপরিচালক রাজধানীর সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। একই বছরের ৬ নভেম্বর আদালত অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।

বিচার চলাকালে মামলায় তালিকাভুক্ত সাতজন সাক্ষীর প্রত্যেকের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য, নথিপত্র ও অন্যান্য উপস্থাপিত প্রমাণ বিশ্লেষণ করে আদালত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন এবং তিন বছরের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে সিতাংশু কুমার সুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন। আদালতের সর্বশেষ রায়ের ফলে তার বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের নিষ্পত্তি হলো।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্নীতি-সংক্রান্ত অভিযোগে সম্পদের হিসাব যথাসময়ে দাখিল করা একটি বাধ্যতামূলক আইনগত দায়িত্ব। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ তথ্য প্রদান না করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। এ রায় সরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জন্য আইন মেনে চলা এবং সম্পদের বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করেছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!