প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০৮:৫২ এএম
ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় বহুল প্রতীক্ষিত রায় আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আসামিদের করা আপিল ও জেল আপিলের পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য পাঠানো ডেথ রেফারেন্সের ওপরও আজ সিদ্ধান্ত দেবেন উচ্চ আদালত।
বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করবেন। গত ২০ আগস্ট মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষ হওয়ার পর আজ রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত ১০ জুন হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হয়। পরবর্তী সময়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নুসরাত হত্যা মামলাটিও এই বেঞ্চের কার্যতালিকায় আসে।
এর আগে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নুসরাত হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ে মামলার ১৬ আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। মাত্র ৬১ কার্যদিবসে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে ৮৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শুনানি করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় গেলে নুসরাতকে পরিকল্পিতভাবে মাদরাসার একটি ভবনের ছাদে নিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান মামলা করেন।
এই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে রয়েছেন মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন, সাবেক কাউন্সিলর মাকসুদ আলমসহ মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। নিম্ন আদালতের রায়ের পর আসামিরা উচ্চ আদালতে আপিল ও জেল আপিল করেন। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে আইন অনুযায়ী অনুমোদনের জন্য মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে।
আজকের রায়ের মধ্য দিয়ে নুসরাত হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। রায়ে নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে কি না, কিংবা আসামিদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাজায় কোনো পরিবর্তন আসে কি না—সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।



