রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চার খুনের ঘটনায় আদালতে দুই যুবকের জবানবন্দি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০৯:৪১ এএম

চার খুনের ঘটনায় আদালতে দুই যুবকের জবানবন্দি

ছবি: সংগৃহীত

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই যুবক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে রংপুর মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে জবানবন্দি গ্রহণের পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক মিলন চ্যাটার্জি জানান, গ্রেপ্তার দুই যুবক আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে বক্তব্য দিয়েছেন। নিজেদের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেওয়ায় তাদের নতুন করে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হয়নি।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন দুই আসামি। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই এসব তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তাদের ভূমিকা কী ছিল এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ কী—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার নেপথ্যের কারণ এবং হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্যও বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে শনিবার রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজেদের বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই ঘটনায় পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পরপরই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। রোববার ভোরে একই এলাকার বাসিন্দা মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে আটক করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও অন্যান্য প্রাথমিক তদন্ত শেষে আদালতে হাজির করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রোববার কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

চার সদস্যের একটি পরিবারের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও শোক বিরাজ করছে। তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!