রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দুর্নীতির ১৫ মামলায় অব্যাহতি পেলেন মির্জা আব্বাস

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ০১:৪০ পিএম

দুর্নীতির ১৫ মামলায় অব্যাহতি  পেলেন মির্জা আব্বাস

সংগৃহীত

বিনা দরপত্রে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ক্ষতির অভিযোগে দায়ের করা ১৫টি দুর্নীতি মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এসব মামলার বিচার শেষে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এ রায় ঘোষণা করা হয়। বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান এ রায় দেন।

মামলাগুলোতে অভিযোগ করা হয়েছিল, সরকারি মালিকানাধীন ১৮টি পরিত্যক্ত বাড়ি যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রভাব খাটানোর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। এতে সরকারের ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ পৃথকভাবে ১৫টি মামলা দায়ের করে। এসব মামলায় মির্জা আব্বাসসহ মোট ২১ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনকে সবগুলো মামলায় আসামি করা হয়েছিল। অন্যদের কেউ একাধিক মামলায় এবং কেউ পৃথক মামলায় আসামি ছিলেন। রায়ের মাধ্যমে এসব মামলার আসামিরাও খালাস পেয়েছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, আসামিদের বিরুদ্ধে গুলশান, ধানমণ্ডি ও শান্তিনগরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ১৮টি পরিত্যক্ত সরকারি বাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়, বাড়িগুলোর মূল্য নির্ধারণ ও বিক্রির ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। সরকারি সংস্থার কর্মকর্তাদের দেওয়া তুলনামূলক বেশি দর বিবেচনায় না নিয়ে কম মূল্যের প্রস্তাবকে গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছিল।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছিল, তৎকালীন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী হিসেবে মির্জা আব্বাস ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসব বাড়ি বিক্রির অনুমোদন দেন। তাঁর বিরুদ্ধে অসৎ উদ্দেশ্যে প্রভাব বিস্তার এবং অন্যদের আর্থিকভাবে লাভবান করার অভিযোগও আনা হয়েছিল। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি বিক্রির প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা ও অনিয়মে যুক্ত থাকার অভিযোগ করা হয়।

মামলাগুলোর তদন্ত শেষ হওয়ার পর একই বছর অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়। পরে ২০০৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া।

বিচার চলাকালে মামলাগুলোর অভিযোগ প্রমাণের জন্য মোট ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। দীর্ঘ সময় ধরে সাক্ষ্যগ্রহণ, নথিপত্র পর্যালোচনা এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মির্জা আব্বাসসহ সংশ্লিষ্ট সব আসামিকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়।

এই মামলায় আসামিদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও ছিলেন। তিনি দুটি মামলায় আসামি ছিলেন। ব্যবসায়ী আহমেদ আকবর সোবহানও দুটি মামলায় আসামি ছিলেন। এ ছাড়া এস এম জাফর উল্লাহ, মো. এমদাদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, গোলাম নবী, কাজী রিয়াজুল মনির, জিয়াউদ্দিন আহমেদ, আব্দুস সাদেক, হুমায়ুন খান, মীর মোশাররফ হোসেন, ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী ও মো. শহীদ আলমসহ আরও কয়েকজন বিভিন্ন মামলায় আসামি ছিলেন।

মামলার অভিযোগে যেসব সরকারি বাড়ির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, সেগুলোর বেশির ভাগই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরে চলা বিচারিক কার্যক্রমের পর একই দিনে ১৫টি মামলার নিষ্পত্তি হওয়ায় মির্জা আব্বাসসহ সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে চলমান এই আইনি প্রক্রিয়ার অবসান ঘটল।

আদালতের এই রায়ে অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা মামলাগুলোতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি—ফলে তারা খালাস পেয়েছেন। দীর্ঘ ১৯ বছর আগে দায়ের হওয়া এসব মামলার রায় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!