প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম
স্ত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর ঢাকার বিচারিক আদালতে হাজিরা দিয়েছেন ছোট পর্দার অভিনেতা নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া ওরফে যাহের আলভী। বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট তিনি তার মা নাসরিন সুলতানাকে সঙ্গে নিয়ে আদালতে উপস্থিত হন। দুজনই ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় করা মামলার আসামি।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে তাদের হাজিরা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় নির্ধারিত ছিল। তবে তদন্তকারী সংস্থা প্রতিবেদন প্রস্তুত করে আদালতে জমা দিতে না পারায় নতুন করে সময় দেওয়া হয়েছে। আদালত আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন।
আদালতে নাসরিন সুলতানার জামিন স্থায়ী করার আবেদন করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে জামিন স্থায়ী না করে নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত তার জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
হাজিরা শেষে মাকে সঙ্গে নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যাহের আলভী শুধু বলেন, ‘আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী।’ এরপর তিনি আর কোনো মন্তব্য না করে মাকে নিয়ে আদালত এলাকা ত্যাগ করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পল্লবী এলাকার একটি বাসায় ইকরাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করেন। পরে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় ওই রাতেই তার বাবা কবির হায়াত খান মামলা করেন। মামলায় দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণে ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এরপর গত ৪ জুন আলভীর মা নাসরিন সুলতানা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান। ১৮ জুন যাহের আলভী আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের হেফাজতেও নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হলে অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।



